অফিস টাইমের বাসে ভয়ংকর কাণ্ড! সহযাত্রীর আঙুল কামড়ে প্রায় খুবলে নিলেন যুবক

খাস কলকাতার ব্যস্ত অফিস টাইমে বাসে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। বাসের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে এক সহযাত্রীর আঙুল কামড়ে প্রায় খুবলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল অপর এক যুবকের বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বাটানগর-ধর্মতলা রুটের ৭৭-এ বাসে এই ঘটনায় রীতিমতো থমকে যান বাসের অন্য যাত্রীরা। রক্তারক্তি কাণ্ডে প্যানিক ছড়িয়ে পড়ে গোটা বাসজুড়ে।

কলকাতা বাসে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি বা তর্কাতর্কি নতুন কিছু নয়। তবে বুধবারের এই ঘটনা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭৭-এ রুটের বাসটি যখন ব্রেস ব্রিজ থেকে তারাতলার দিকে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই দুই যাত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়।

আক্রান্ত যাত্রী নব্যেন্দু কয়াল জানান, তাঁর ঠিক পাশেই এক যুবক একটি অত্যন্ত ভারী ও বড় ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বারবার ওই যুবককে ব্যাগটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করলেও অভিযুক্ত তাতে কর্ণপাত করেননি। এরপর বাসের অন্য এক যাত্রী নামতে যাওয়ার সময় ওই যুবক তাঁর ভারী ব্যাগটি সজোরে নব্যেন্দুবাবুর মাথার ওপর তুলে রাখেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করলেই ওই যুবক মারমুখী হয়ে ওঠে। নব্যেন্দুবাবু হাত দিয়ে মার আটকাতে গেলে অভিযুক্ত হঠাৎই তাঁর বাঁ হাতের আঙুলে সজোরে কামড় বসিয়ে দেন। অভিযোগ, কামড়ে আঙুলটি প্রায় কেটে আলাদা করার উপক্রম হয়। যাত্রীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপরও চড়াও হন ওই যুবক এবং আঁচড়ে দেন।

এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা ও পুলিশের পদক্ষেপ

বাসের মধ্যেই রক্তারক্তি কাণ্ড বেজে যাওয়ায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। বাসটি তারাতলায় পৌঁছতেই ক্ষিপ্ত জনতা অভিযুক্ত যুবককে জোর করে বাস থেকে নামায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় ট্রাফিক সার্জেন ও তারাতলা থানার পুলিশ।

রক্তাক্ত অবস্থায় আক্রান্ত নব্যেন্দু কয়ালকে তৎক্ষণাৎ এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁর আঙুলে অস্ত্রোপচার করে ১০ থেকে ১২টি সেলাই দেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, আঙুলের নার্ভ ও টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই আঙুলটি আদৌ আগের মতো স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত মারমুখী যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *