আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরিতে বড় বিপত্তি! প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটাতে এবার কোন অভিনব পথ নিল স্বাস্থ্য দপ্তর?

রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যেই সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসার আওতায় আনতে রাজ্যজুড়ে চলছে আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পের কাজ। তবে এই মহাযজ্ঞের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অর্থাৎ ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করতে গিয়ে চরম জটিলতার মুখে পড়ছিলেন উপভোক্তারা। আর সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এবার এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।
ডাক বিভাগের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা
দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইন পোর্টালে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সার্ভার ডাউন, প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব এবং গ্রামীণ এলাকায় নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ই-केওয়াইসি প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। সাধারণ মানুষকে এই যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি দিতে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরিষেবা পৌঁছে দিতে এবার ভারতীয় ডাক বিভাগের (India Post) সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। এর ফলে খুব শীঘ্রই রাজ্যের প্রতিটি প্রধান ডাকঘর থেকে শুরু করে একেবারে গ্রামীণ এলাকার শাখা পোস্ট অফিস বা ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিস থেকেও খুব সহজেই আয়ুষ্মান ভারতের ই-কেওয়াইসি করিয়ে নেওয়া যাবে।
৬ কোটি মানুষকে প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য
স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪ লক্ষ উপভোক্তার ই-केওয়াইসি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের লক্ষ্য এর থেকেও অনেক বড়। আগামী দিনে প্রায় ৬ কোটিরও বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুষম সুবিধার আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক মানুষের নথি যাচাইয়ের কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দ্রুত শেষ করতেই এবার ডাক বিভাগের পরিকাঠামোকে কাজে লাগানোর এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের কাছ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তাঁদের হাতে সুনির্দিষ্ট উপভোক্তাদের নামের তালিকা এবং নির্দিষ্ট ফর্ম তুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য বরাদ্দ করা একটি নির্দিষ্ট পরিচয় নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
কোথায় তৈরি হচ্ছে মূল সমস্যা?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরির ক্ষেত্রে উপভোক্তারা মূলত ই-केওয়াইসি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার সময়ই সবচেয়ে বেশি হোঁচট খাচ্ছেন। বহু মানুষ নিজেরা এই কাজ করতে গিয়ে নানা ত্রুটির মুখে পড়ছেন। শুধু তাই নয়, ই-কেওয়াইসি যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত মূল অনলাইন পোর্টালে বারবার সার্ভারের সমস্যা ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বহু গ্রামাঞ্চলে সঠিক নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেটের সংযোগ না থাকায় মাঝপথেই থমকে যাচ্ছে কাজ। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, আবার কোথাও ই-केওয়াইসি সম্পূর্ণ করাটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে মিলবে পরিষেবা?
ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, এই নতুন ব্যবস্থায় পরিষেবা পেতে গেলে উপভোক্তাদের সঙ্গে মূলত তিনটি জিনিস আবশ্যিকভাবে রাখতে হবে—আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট পরিচয় নম্বর, [Aadhaar Redacted] কার্ড এবং রেজিস্টার্ড মোবাইল ফোনটি। ডাকঘরের কর্মীরা নির্দিষ্ট পোর্টালে এই তথ্যগুলি এন্ট্রি করার পর ওটিপি (OTP) যাচাইয়ের মাধ্যমেই খুব কম সময়ে ই-केওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে দেবেন।
শহরাঞ্চলের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামের পোস্ট অফিসগুলিতেও এই পরিষেবা চালু করার ফলে একদিকে যেমন নথি যাচাইয়ের কাজে অভাবনীয় গতি আসবে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের নিখরচায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার পথও আগের থেকে অনেক বেশি সুগম ও সহজ হবে বলে আশা করছেন ওয়াকিবহাল মহল।