বারবার কেওয়াইসি জমানোর ঝামেলার দিন শেষ! বাড়িতে বসেই এক মিসড কলেই জেনে নিন আপনার ১৪ সংখ্যার এই বিশেষ নম্বর

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের ব্যাংকের শরণাপন্ন হতে হয়। আর ব্যাংকের যেকোনো কাজ মানেই আলাদা করে পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার চক্কর। প্রতিটি আর্থিক লেনদেন বা নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বারবার আলাদা কেওয়াইসি (KYC) জমা দেওয়া গ্রাহকদের কাছে অনেক সময়ই বেশ ঝামেলার হয়ে দাঁড়ায়। তবে গ্রাহকদের এই দুর্ভোগ কমাতে এবং ব্যাংকিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে রয়েছে দুর্দান্ত এক বিকল্প—সেন্ট্রাল কেওয়াইসি বা সিকেওয়াইসি (CKYC)।
কী এই CKYC?
গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সেন্ট্রাল কেওয়াইসি বর্তমানে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে সামনে এসেছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)-এর পক্ষ থেকে গ্রাহকদের পরামর্শ দেওয়া হয়, তাঁদের প্রত্যেকেরই ১৪ সংখ্যার সেন্ট্রাল কেওয়াইসি বা CKYC নম্বরটি জেনে রাখা উচিত। ব্যাংকিং বা যেকোনো আর্থিক পরিষেবা গ্রহণ করার সময় এই নম্বরটি ব্যবহার করলে বারবার আলাদা করে কাগজপত্র যাচাই করার ঝামেলা থেকে সহজেই রেহাই পাওয়া যায়। প্রথমবার কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করলেই সমস্ত তথ্য সেন্ট্রাল কেওয়াইসি রেকর্ড রেজিস্ট্রিতে নিরাপদে নথিভুক্ত হয়ে যায়।
এর পরই গ্রাহককে একটি বিশেষ ১৪ সংখ্যার CKYC নম্বর প্রদান করা হয়। একবার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করতে আর আলাদা করে কোনো প্রমাণপত্র বা নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান তখন কেবল ওই ১৪ সংখ্যার CKYC নম্বর ব্যবহার করেই কেন্দ্রীয় ডেটাবেস থেকে পূর্বের যাচাই করা রেকর্ড সংগ্রহ করে নেয়। এর ফলে গ্রাহকদের যেকোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন হয়।
কীভাবে মিলবে এই নম্বর?
দেশের সমস্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই মূলত একটিমাত্র কেওয়াইসি রেকর্ড ব্যবহৃত হয়। CKYC-এর মাধ্যমে খুব কম সময়ের মধ্যেই যেকোনো নতুন অ্যাকাউন্ট সচল করা সম্ভব হয়। কেন্দ্রীয় রেজিস্ট্রিতে গ্রাহকদের সমস্ত ডেটা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে এবং এটি অ্যাক্সেস করার জন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওটিপি (OTP)-র মাধ্যমে গ্রাহকের নিজস্ব সম্মতির প্রয়োজন হয়।
খুব সহজেই কয়েকটি উপায়ে আপনিও আপনার CKYC নম্বরটি জেনে নিতে পারেন:
মিসড কল পরিষেবা: আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর থেকে 7799022129 নম্বরে একটি মিসড কল দিলেই CKYC নম্বরটি জানতে পারবেন।
নেট ব্যাংকিং ও অ্যাপ: যে ব্যাংক বা মিউচুয়াল ফান্ড সংস্থায় আপনার অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার অফিশিয়াল নেট ব্যাংকিং বা মোবাইল অ্যাপের প্রোফাইল বিভাগে গিয়েও এই নম্বর জেনে নেওয়া যায়।
কাস্টমার কেয়ার: সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করেও নম্বরটি সংগ্রহ করা সম্ভব।
অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিলকার: অফিশিয়াল CKYC ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে CKYC কার্ড বা নম্বর ডাউনলোড করা যায়। এ ছাড়া DigiLocker অ্যাপের মাধ্যমেও খুব সহজেই CKYC কার্ড পেয়ে যাবেন গ্রাহকরা।