স্বামীর দলবদলের গুঞ্জনে মেজাজ হারালেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়! সংবাদমাধ্যমের সামনে সোজাসাপ্টা কী বললেন বিধায়ক?

মঙ্গলবার কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে আয়োজিত ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর শহিদ দিবসের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চৌরঙ্গীর তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে স্বামী তথা কলকাতা উত্তরের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদল ও এনডিএ শিবিরে যোগদান সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠতেই সংবাদমাধ্যমের সামনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। সোজাসাপ্টা সুরে তিনি জানিয়ে দিলেন, সুদীপের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা তাঁর দলত্যাগ সংক্রান্ত কোনো দায়িত্ব তিনি একা নেবেন না।
ঠিক কী বললেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়?
মঙ্গলবার শহিদ মঞ্চ থেকে নেমে আসার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই স্বামী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত রাগত স্বরে বলেন, “সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব আমি নিয়ে বসে নেই। ঠিক আছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করতে হলে দিল্লি চলো। দিল্লিতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো। আমি তাঁর দায়িত্ব নিয়ে বসে নেই।” তাঁর এই কথা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, স্বামীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় তিনি নিজের ঘাড়ে নিতে নারাজ এবং এই বিষয়ে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতেও তিনি ইচ্ছুক নন।
দলের অন্দরেও আক্রমণের মুখে নয়না
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কচ্ছেদ করে অন্য শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই অস্বস্তিতে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি দলের অন্দরেও তাঁকে বিভিন্ন সময়ে নানা সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতারা কলকাতা উত্তরের এই সাংসদকে তীব্র আক্রমণ করেন। কুণাল ঘোষ তো কটাক্ষ করে সুদীপবাবুকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও পিছপা হননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তৃণমূলে নিজের অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকার কারণে বারবার স্বামীর দলবদল নিয়ে এই ধরণের বিব্রতকর প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যেতে চাইছেন চৌরঙ্গীর বিধায়ক।
কী ছিল সুদীপের প্রতিক্রিয়া?
এর আগে যখন প্রশ্ন উঠেছিল যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছাড়লেও কেন তাঁর স্ত্রী নয়না তৃণমূলের সঙ্গেই রয়ে গেলেন, তখন সেই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন খোদ সুদীপবাবু নিজেই। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “আমি আমার নিজের স্ত্রীকে এখনও বোঝাতে পারিনি। সে এখনও বিধানসভায় তৃণমূল শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছে। আমাদের মধ্যে এ নিয়ে কথা হলেও শেষ পর্যন্ত আমরা নিজ নিজ অবস্থানে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” কেরল কিংবা বাংলার অন্য অনেক রাজনৈতিক পরিবারের মতো স্বামী-স্ত্রী আলাদা রাজনৈতিক পথ বেছে নিলেও তা যে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর কোনো প্রভাব ফেলছে না, সে কথাই ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে এতকিছুর পরেও স্বামীর রাজনৈতিক পদক্ষেপের জেরে নয়নার সামনে এই ধরনের বিড়ম্বনা যে বারবার ফিরে আসছে, তা বলাই বাহুল্য।