মহুয়ার রহস্যমৃত্যুর ৪০ বছর পর বড় পর্দায় বিস্ফোরক বায়োপিক! হুবহু মহুয়া হয়ে তাক লাগালেন অঙ্কিতা মল্লিক

সাল ১৯৮৫। ২২ জুলাইয়ের সেই অভিশপ্ত ভোরেই গোটা বাংলা জগত জেনেছিল, আর নেই দাপুটে অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। যাঁর জীবনযাপন ও রহস্যময় মৃত্যু ঘিরে আজও দানা বেঁধে রয়েছে অজস্র কৌতূহল ও বিতর্ক। দীর্ঘ চার দশক পর এবার রাণা সরকারের প্রযোজনায় এবং রাজদীপ ঘোষের পরিচালনায় মুক্তি পেতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি ‘গুন গুন করে মহুয়া’। এই বায়োপিকে মহুয়ার আদলে তৈরি কেন্দ্রীয় চরিত্রে বড় পর্দায় ডেবিউ করতে চলেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ অঙ্কিতা মল্লিক। ছবির প্রথম পোস্টারেই অঙ্কিতার মেকওভার দেখে তাজ্জব বনে গেছেন অনুরাগীরা। মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুণ্ডুর জাদুকরী ছোঁয়ায় রিয়েল লাইফের অঙ্কিতা কীভাবে রিল লাইফে হুবহু মহুয়া হয়ে উঠলেন, তা এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বাংলা ছবির স্বর্ণযুগের অন্যতম আলোচিত এই অভিনেত্রীকে নিয়ে আজও মানুষের আগ্রহের অন্ত নেই। বহু নামী নায়কের সঙ্গে তাঁর অনবদ্য জুটি সিলভার স্ক্রিন কাঁপিয়েছে। মহুয়াকে স্মরণ করে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, “আমার চরম আফসোস, মহুয়া রায়চৌধুরীর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু তাঁর অভিনয় দক্ষতা ছিল আন্তর্জাতিক মানের। তরুণ মজুমদারের ছবির একটি দৃশ্যে তাঁর চোখের জলের নিখুঁত অভিব্যক্তি আজও গায়ে কাঁটা দেয়। এ কথা বলতে গিয়েও আমার চোখে জল চলে আসছে। আমরা অভিনেত্রীদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করি, কিন্তু তাঁদের অসামান্য লড়াই ও পরিশ্রমকে আজও সম্মান জানাতে জানি না। মহুয়াকে নিয়ে এই বায়োপিক তৈরি হচ্ছে জেনেই আমি ভীষণ খুশি। তিনি বাণিজ্যিক থেকে অন্যধারার ছবি—সবক্ষেত্রেই সমান জনপ্রিয় ছিলেন।”
মহুয়ার সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর দিনের স্মৃতিচারণা করে প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পাল টিভি নাইন বাংলাকে জানান, “আমার আজও মনে পড়ে, ঝুমাদি (দেবশ্রী রায়ের দিদি) খবরটা নিয়ে ছুটে এসেছিল। সেই ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনার পর তাপস বহুবার দেখতে গিয়েছিল, কিন্তু মহুয়ার সেই দগ্ধ অবস্থা সে সহ্য করতে পারত না। তাপসের সঙ্গে প্রথম ছবি ‘দাদার কীর্তি’-তে অভিনয় করার সময় মহুয়াদি কান্নার দৃশ্য শেষ হওয়ার পরও প্রায় দশ মিনিট ধরে কেঁদেছিলেন, এতটাই চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যেতেন তিনি। মৃত্যুর ঠিক আগে ফোনে তাপসকে বলেছিলেন, ‘আমি ভালো নেই!’ কী অদ্ভুত কাকতালীয়!”
মহুয়ার সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে নন্দিনী আরও যোগ করেন, “আমি তাঁকে ‘মহুয়াদিদি’ বলে ডাকতাম। আমার বিয়েতে তিনি আসতে না পারলেও একটি সুন্দর ম্যাজেন্ডা রঙের বেনারসি উপহার পাঠিয়েছিলেন, যা আজও আমার কাছে সযত্নে রাখা আছে। একবার শুটিংয়ে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় তিনি দিদির মতো তাপসকে একটি চিঠিও লিখেছিলেন। আমার অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ার পর কৌতূহলবশত তাঁর হাতের কাটা দাগের রহস্য জিজ্ঞেস করলেই তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি বড় হও, সব বুঝব।’ অনেকেরই ধারণা তিনি উচ্ছৃঙ্খল জীবন কাটাতেন, কিন্তু আমার কখনও তা মনে হয়নি, তিনি অসম্ভব অভিমানী এক মানুষ ছিলেন।”
কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন—মহুয়া রায়চৌধুরীর পুরো জীবনটাই যেন এক বিরাট চুম্বক। সমস্ত জল্পনা ও স্মৃতির রোমন্থন পেরিয়ে চলতি বছরেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘গুন গুন করে মহুয়া’। এখন শুধু অপেক্ষা সিলভার স্ক্রিনে সেই সোনালী যুগের ট্র্যাজিক নায়িকাকে ফিরে দেখার।