খতরনাক রূপ নিচ্ছে এল নিনো! বর্ষার গতিপ্রকৃতিতে বড় বদল, দেশে অ্যালার্ট জারি

বর্ষার মাঝপথেই আবহাওয়া দফতর এবং বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বড়সড় বদল আসছে দেশের মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতিতে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এল নিনো এবার তার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও খতরনাক রূপ নিতে চলেছে। এর সরাসরি প্রভাবে মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তর ভারতের সমতলভূমির দিক থেকে আরও দক্ষিণে সরে গিয়ে বর্তমানে মধ্য ভারতের ওপর অবস্থান করছে। আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়াই নির্ধারণ করে দেবে আসন্ন অগাস্ট মাসটি দেশের মানুষের জন্য কেমন কাটতে চলেছে।

মৌসুমি অক্ষরেখা উত্তর দিক থেকে সরে মধ্য ভারতের দিকে চলে যাওয়ায় উত্তর ভারতীয় সমভূমির ওপর আর্দ্র পূর্বাঞ্চলীয় বায়ুর দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাব, চণ্ডীগড় এবং উত্তর রাজস্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি (১০-৪০ মিমি) বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই বৃষ্টি একটানা বা সমগ্র অঞ্চল জুড়ে হবে না; কেবল ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বর্ষণ হতে পারে। ফলে দিল্লি, পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা এই সময়ে মাঠের কাজ সেরে নেওয়ার সুযোগ পেলেও, ভারী বৃষ্টির বড় কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে উত্তর ভারতে নেই।

উত্তর ভারতে বৃষ্টির দাপট কমলেও মধ্য ভারত ও পশ্চিম ভারতে বড় বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় এবং মহারাষ্ট্রে সক্রিয় মৌসুমী অবস্থার কারণে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।

বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে রবিবারের মধ্যে এই ভারী বৃষ্টির ধারা মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত এবং দক্ষিণ রাজস্থানের দিকে সরে যাবে। এই রাজ্যগুলিতে একটানা ব্যাপক থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে, যার জেরে নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিরও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অন্যদিকে, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও গুজরাতের কিছু অংশে বর্ষার খরা পরিস্থিতির দিকেও সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

দক্ষিণ ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি ও এল নিনোর কোপ

এল নিনোর মারাত্মক প্রভাবে দক্ষিণ ভারতে মৌসুমি বায়ুর কার্যকলাপে বড়সড় দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। কেরল, কর্নাটক, তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্রপ্রদেশের অনেক অঞ্চলেই বর্ষার ঘাটতি স্পষ্ট। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলেই এল নিনো তার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মৌসুমি বায়ুতে চরম ওঠানামা তৈরি করছে। কখনও অতিভারী বৃষ্টি আবার কখনও তীব্র খরা—এটাই এল নিনোর সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।

আগামী দিনের পূর্বাভাস ও অগাস্টের ভাগ্য নির্ধারণ

আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মৌসুমি অক্ষরেখা শক্তিশালী না হলে সমগ্র দেশেই অগাস্ট মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে এর মধ্যেও পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত—বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার, নেপাল, উত্তরাখণ্ড, অসম, মেঘালয় এবং সিকিমে অগাস্ট মাসজুড়ে (এমনকী তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহেও) ভালো বৃষ্টির সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়াই ২০২৬ সালের বর্ষার চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *