“রাস্তা জুড়ে শুধুই গর্ত, এ দোষ সরকারের!” দুর্ঘটনার পরেই বিস্ফোরক সহযাত্রী

বাইক চালিয়ে অনেক দূরে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল বছর ৪৪-এর দেবাহুতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু খড়্গপুরের কাছে এক ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় কলকাতার ঢাকুরিয়ার এই মহিলা বাইকারের প্রাণ কেড়ে নিল বেহাল রাস্তা। পরিবারের দাবি, এটা নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অন্যের গাফিলতির খেসারত দিতে হলো দেবাহুতিকে। এই মৃত্যুর দায় কার? এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন তাঁর শোকস্তব্ধ বন্ধু ও স্বজনরা।
১. ওড়িশা থেকে ফেরার পথে মর্মান্তিক পরিণতি
সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশার সংযোগকারী ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে রবিবার ৯ জনের একটি বাইকার্স টিম নিয়ে কলকাতায় ফিরছিলেন ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা দেবাহুতি বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দলে দেবাহুতির ছেলেও ছিলেন, তবে তিনি অন্য একটি বাইকে ছিলেন। খড়্গপুরের কাছে বালিহাটি এলাকায় পৌঁছতেই ঘটে যায় সেই মারাত্মক দুর্ঘটনা।
২. কী ঘটেছিল সেদিন? প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান
দেবাহুতির বাইকের পেছনে বসা সহযাত্রী টুম্পা পাল সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, দুর্ঘটনার সময় বাইককে অন্য কোনো গাড়ি ধাক্কা মারেনি। জাতীয় সড়কের একটি বিশালাকার গর্তে বাইকের চাকা পড়ে যাওয়ার জন্যই এই বিপত্তি ঘটে।
টুম্পা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওড়িশা হয়ে এলাম, সেখানকার রাস্তা দারুণ। কিন্তু আমরা পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতেই শুধুই ব্যারিকেড আর রাস্তা জুড়ে শুধুই গর্ত আর গর্ত!” তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, খানাখন্দে ভরা ওই রাস্তার একটি গভীর গর্তে বাইকটি পড়ার পর ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তাঁরা। দেবাহুতির বাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে থাকা একটি ডিভাইডারে সজোরে ধাক্কা মারে। মাথায় ও বুকে গুরুতর চোট পেয়ে ঘটনাস্থলেই সব শেষ হয়ে যায়।
৩. সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে টুম্পা প্রশ্ন তোলেন, “এগুলোর কি কারোর কিছু যায় আসে না? এটা পুরোপুরি সরকারের দোষ। রাস্তার নাম করে টাকা তুলেছে, আর সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, দেবাহুতির ছেলে সবেমাত্র কলেজে ভর্তি হবে, বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা রয়েছেন। এই মৃত্যুর দায় কে নেবে?
এদিকে, জেলা পুলিশের এক শীর্ষকর্তাও রাস্তার বেহাল দশার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, ওই এলাকার রাস্তার অবস্থা সত্যিই খুবই খারাপ। গর্তে বাইকটি পড়ার পরেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়েন এবং পাশে থাকা ব্যারিয়ারে ধাক্কা খান। মাথায় ও বুকে মারাত্মক আঘাত লেগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। তবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত এনএইচ (NH) কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।