“জোড়া মঞ্চে নজিরবিহীন ২১ শে জুলাই!”-TMC-র কোন শিবিরে কত ভিড়? রইল রিপোর্ট

গত ১৫ বছরের চেনা রাজনৈতিক ছবিটা এ বছর সম্পূর্ণ বদলে গেল। একুশে জুলাই মানেই যে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ত্রিস্তরীয় মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাঁধভাঙা ভিড়—তার কিছুই এ বছর দেখা গেল না। দল ভেঙে দু’টুকরো হয়ে যাওয়ায় এবার একুশে জুলাইয়ে খাস কলকাতায় হল দুটি আলাদা শহিদ সমাবেশ। ঢিল ছোড়া দূরত্বের দুই মঞ্চে ভাগ হয়ে গেলেন নেতা-নেত্রীরা।
১. কেমন ছিল এবারের নজিরবিহীন একুশে জুলাই?
প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের আগের দিন থেকেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি থেকে হাজার হাজার তৃণমূলকর্মী কলকাতায় আসা শুরু করতেন এবং বিভিন্ন ক্যাম্পে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা হতো। কিন্তু এবারে ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
-
শিয়ালদা, হাওড়া স্টেশন এবং ফেরিঘাট চত্বর ছিল একেবারে ফাঁকা। অন্য সাধারণ দিনের সঙ্গে এদিনের কোনো তফাত ছিল না।
-
শহরজুড়ে ছিল না কোনো দলীয় গেট, ফেস্টুন, পোস্টার বা লাউডস্পিকারের আওয়াজ। রাস্তায় ত্রিপল টাঙিয়ে ডিম-ভাত রান্নার চেনা দৃশ্যও এবার প্রায় উধাও।
-
দুই জায়গায় সভা হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মীরাও বেশ বিভ্রান্ত হন। অনেককেই বলতে শোনা যায়, প্রতীক তো একটাই, তাই তাঁরা ‘এমনিই’ অন্য সভা ঘুরে মূল গন্তব্যে যাচ্ছেন।
এদিকে, কালীঘাট শিবিরের অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসন সভা বানচাল করার চেষ্টা করেছে, এমনকী আদালতের অনুমতি সত্ত্বেও মঞ্চ ভাঙার চেষ্টা, পোস্টার ছেঁড়া ও মাইকের তার কেটে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তারা। রাতভর মঞ্চ পাহারা দিতে দেখা যায় মমতা-অভিষেককে।
২. ভিড়ের নিরিখে কে কাকে টেক্কা দিল?
মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে দুই মঞ্চে লোক টানার লড়াইয়ে ভিড়ের বিচারে অনেকটাই এগিয়ে ছিল মমতাপন্থী শিবির।
-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা: কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মঞ্চ বাঁধে মমতা শিবির। ক্যাথিড্রাল রোডের একটি গোটা লেন কালো মাথার সমুদ্র হয়ে ওঠে। আগের ১৫ বছরের মতোই জোরালো স্লোগানে মুখরিত হয় চত্বর।
-
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা: ধর্মতলার মেয়ো রোডে আয়োজিত এই সভায় সকালের দিকে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগণ্য, চেয়ারগুলি প্রায় ফাঁকাই পড়েছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত হন।
৩. দুই শিবিরের হেভিওয়েট উপস্থিতি ও বার্তা
| বিষয় | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির (বিড়লা তারামণ্ডল) | ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির (মেয়ো রোড) |
| উপস্থিত বিশিষ্ট মুখ ও নেতারা | কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রাজীব কুমার, সাগরিকা ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়, মহুয়া মৈত্র, অশোক দেব, গৌতম দেব প্রমুখ। | ফিরহাদ হাকিম, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, শিউলি সাহা, অরূপ চক্রবর্তী, অনুব্রত মণ্ডল, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান, দেবাশিস কুমার, মদন মিত্র, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও শহিদ পরিবারগুলির সদস্যরা। |
| মূল রাজনৈতিক বার্তা | ১ মাস সময় দিয়ে ঋতপন্থী ও মদন মিত্রদের অভিষেককে ছেড়ে দলে ফিরে আসার আহ্বান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। ঋতব্রত শিবিরের কাউকেই আর দলে ফেরানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মমতা। | নির্বাচন কমিশন আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দিলে এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি পেলে শহিদ পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। |