সফদরজং থেকে সোজা মেদান্তায়! দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে স্থানান্তরিত হচ্ছেন আন্দোলনকারী কর্মী সোনম ওয়াংচুক

বিশিষ্ট জলবায়ু ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে সরিয়ে গুরুগ্রামের মেদান্তা (Medanta) হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশে সম্মতি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারও। মেদান্তায় স্থানান্তরের বিষয়ে আদালত প্রথমে মৌখিক নির্দেশ দিলেও আজ সন্ধ্যার মধ্যেই এ বিষয়ে একটি লিখিত আদেশ জারি করা হবে বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া ছাড়পত্র নয়
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতের এই সিদ্ধান্তে সায় দিয়ে জানান যে, চিকিৎসকদের অনুমতি ও পরামর্শ ছাড়া সোনম ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতাল থেকে যেন কোনোভাবেই অব্যাহতি (Discharge) দেওয়া না হয়। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পরেই আদালত তাঁকে মেদান্তায় স্থানান্তরিত করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়।

সোনমের স্ত্রীর আপিল ও আদালতের নির্দেশ
সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি হাইকোর্টে এই শুনানি হয়। এর আগে একক বিচারপতির যে বেঞ্চ ওয়াংচুককে সফদরজং থেকে মেদান্তায় স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল, সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী।

শুনানি চলাকালীন আদালত মেদান্তা হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি বিশেষ প্যানেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, ওয়াংচুকের সমস্ত মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট সেই চিকিৎসকমণ্ডলীর কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আদালতে সিবাল ও তুষার মেহতার সওয়াল
এদিনের শুনানিতে সোনম ওয়াংচুকের আইনি লড়াইয়ে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। অন্যদিকে, কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের প্রতিনিধিত্ব করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুনানির সময় হাসপাতালে সোনমের চিকিৎসায় যুক্ত সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী কপিল সিবাল আদালতকে জানান যে তাঁর কাছে থাকা সমস্ত মেডিকেল রিপোর্ট তিনি ইতিমধ্যে জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সরকারের একমাত্র চিন্তা ছিল যে, ওয়াংচুকের আশেপাশে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা তাঁর স্বাস্থ্যের কথা না ভেবেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে জোর করে বের করে নিতে চাইছিলেন।

সফদরজং হাসপাতালের আগের আপডেট
এর আগে সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল যে, সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তাঁর রক্তের প্যারামিটারগুলি অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। হাসপাতালে তিনি একটানা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছিলেন এবং বিশেষজ্ঞদের একটি দল তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর নিরন্তর নজর রেখেছিল।

কেন শুরু হয়েছিল এই অনশন?
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা NEET-UG পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। টানা ২১ দিন অনশন চালিয়ে যাওয়ার পর গত শনিবার (গত মাসের শেষের দিকে) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দিল্লি পুলিশ তাঁকে জোর করে যন্তর মন্তর থেকে উদ্ধার করে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *