তহবিলে ১ হাজার কোটি! ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বড় ঘোষণা ঋতব্রতর

নব তৃণমূলের শহিদ দিবস অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগে সরব হলেন নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি যেমন একদিকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নব তৃণমূলের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছেন, তেমনই অন্যদিকে দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং ২১ জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন তুলেছেন।
কর্মীদের ওপর হামলা ও বিজেপির হুমকি
ঋতব্রত অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের দলের কর্মীরা আক্রান্ত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। মহেশতলায় বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি বাস না বার করার জন্য হুমকি দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। সভা শেষে এই ঘটনায় থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন নব তৃণমূল নেতা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বিজেপি যদি মনে করে রক্তচক্ষু দেখিয়ে আমাদের ঠেকাবে, তাহলে তারা ভুল করছে।”
‘শহিদ দিবস কোনো রিয়েলিটি শো বা ক্যাটওয়াকের মঞ্চ নয়’
তৃণমূলের মূল স্রোতের অনুষ্ঠানকে তীব্র আক্রমণ করে ঋতব্রত বলেন, “শহিদ দিবস কোনও রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ নয়, শহিদ দিবস কোনও ক্যাটওয়াকের মঞ্চ নয়। বাস থেকে নামিয়ে সেলিব্রিটিদের নিয়ে মঞ্চ আলোকিত করার জায়গা নয়। যারা প্রতিদিন লড়াই করেন, তাঁরা প্রাপ্য মর্যাদা পাননি।”
মমতাকে প্রশ্ন এবং একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে একাধিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “দিদি, কেন ২১ জুলাইয়ের কমিশনের রিপোর্ট সামনে আসেনি?” তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্ট ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ওই আন্দোলনে কেন গুলি চলেছিল এবং কেন একের পর এক কমিশনের রিপোর্ট আড়াল করা হয়েছে, সেই জবাবও দাবি করেন তিনি।
দলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঋতব্রত জানান, দলের তহবিলে প্রায় এক হাজার কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে এবং সেই অর্থের সুদ থেকেই কর্মীদের সাহায্য করা সম্ভব। অবিলম্বে ওই সুদের হিসাব প্রকাশ করে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি বড় ঘোষণা করে তিনি বলেন, ওই অর্থ হাতে এলে ২১ জুলাইয়ের প্রত্যেক শহিদ পরিবারের হাতে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতি তিন মাস অন্তর দল কত টাকা খরচ করছে, তার হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬০ কোটি টাকা তোলা হয়েছে। বক্তব্যের শেষে বিস্ফোরক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “বাঘ ডিম খায় না, বাঘরোল ডিম খায়।”
‘সেটিং’ ও সংসদে সমঝোতার বিস্ফোরক অভিযোগ
ঋতব্রতের অভিযোগ, ২১ জুলাইয়ের শহিদদের সঙ্গে যে প্রতারণা হয়েছে, তা আগে কখনও হয়নি। কয়লা ও বালি চুরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “কয়লা, বালি-সহ অনেক কিছু চুরি হয়েছে, কিন্তু শহিদদের সঙ্গে এমন চুরি কখনও হয়নি।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি ঘনিষ্ঠতার ‘সেটিং’ তত্ত্ব তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় জগদীপ ধনখড় প্রার্থী থাকাকালীন একটি দল ভোট দেয়নি। লোকসভায় একাধিক বিল পাশ করাতে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই কারণেই একাধিক সাংসদ ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত ছিলেন বা ‘ফ্লাইট মিস’ করেছিলেন। বিজেপির প্রয়োজনীয় ভোট নিশ্চিত করতেই এই সমঝোতা হয়েছিল এবং সংসদে কী করতে হবে, সেই সমস্ত নির্দেশ নির্দিষ্ট একটি বাড়ি থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।