‘২০২৯-এই সব খতম!’ ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বেঁধে দিলেন কল্যাণ

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে চরম আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিড়লা তারামণ্ডলের মঞ্চ থেকে সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরকে নিশানা করে কল্যাণ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৯ সালই হলো এই বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কদের ‘এক্সপায়ারি ডেট’ বা মেয়াদ শেষের সময়। একইসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো অস্তিত্বই কল্পনা করা যায় না।

মঞ্চে পুরোনো স্মৃতি ও কর্মীদের উন্মাদনা
এদিনের বক্তব্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শুরুতেই কর্মীদের অভূতপূর্ব জমায়েত ও উন্মাদনার প্রশংসা করেন। স্মরণ করেন বিগত দিনের সিপিএম জমানার নানা দমনপীড়নের কথা। অতীতে চম্পাইতলার মিটিংয়ে মমতার ওপর হওয়া বাধার দিনগুলোর কথা টেনে এনে তিনি বলেন, সোমবার রাতেও মঞ্চ ভাঙার মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, যা সিপিএম জমানার সেই পুরোনো রাজনীতিকেই মনে করিয়ে দেয়।

‘নেতা নয়, কর্মীরাই শেষ কথা’
দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে বলতে গিয়ে কল্যাণ জানান, গত আড়াই মাসে বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারীর টিআরপি অনেকটাই কমেছে। বিভিন্ন জেলায় ঘুরে কর্মীদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁর স্পষ্ট বার্তা—“নেতা আবার কী? কর্মীরাই তো সব। কর্মীরাই আগামী দিনে নেতা ঠিক করবে। সেই নেতাকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকৃতি দেবে।”

ঋতব্রতদের ‘এক্সপায়ারি ডেট’ ২০২৯
দলত্যাগী নেতাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন বা ‘বেইমান ও গদ্দার’ হিসেবে পরিচিত, তাতে দলের কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ কর্মীদের প্রাণে রয়েছেন কেবল মমতা। এরপরেই ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের উদ্দেশ্যে তাঁর হুঙ্কার, “আপনাদের এমএলএ-দের এক্সপায়ারি ডেট ২০২৯।” এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে কল্যাণ বলেন, মোদী-শাহ সংসদ সদস্য বা বিধায়ক কেনার রাজনীতি করছেন। ভবিষ্যতে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ভোট’ বিল পাস হলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন করতে হবে। আর সেই কারণেই ওই বছরই এই দলত্যাগীদের রাজনৈতিক মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বলে দাবি করেন এই প্রবীণ সাংসদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *