‘মোদি-প্রধানের পদত্যাগ চাই!’ দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

দিল্লিতে ‘কক্ষরোজ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আয়োজিত ছাত্র আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোমবারের এই প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপকে “অত্যন্ত নির্মম ও বর্বর” বলে তোপ দাগলেন তিনি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ।
প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা ও পদত্যাগের দাবি
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কেন চুপ আছেন? ছাত্রদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তার জন্য তিনি একটিবার ক্ষমাও চাননি। তাঁর অবিলম্বে মুখ খোলা উচিত এবং পুলিশের এই অনৈতিক দমনপীড়ন বন্ধ করা দরকার।”
দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান—তিন জনেরই পদত্যাগ করা উচিত।
শিক্ষাব্যবস্থা ও ধনকুবেরদের প্রসঙ্গ
তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে সরব হয়ে রাহুল বলেন, দেশের যুবসমাজের জন্য সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার যে একটিমাত্র দরজা খোলা ছিল, তাণ্ডব চালিয়ে তাও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শিক্ষাব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং আম্বানি-আদানির প্রভাবের কারণে আজ শিক্ষার্থীরা কোণঠাসা। একদিকে আম্বানির বিয়েতে হাজার কোটি টাকা ওড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে তরুণদের নিজস্ব ব্যবসা শুরু করার মতো কোনো পুঁজি নেই। এটি শুধু শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা নয়, এটি ভারতের ছাত্রসমাজকে ধংস করার চক্রান্ত।”
রাম মনোহর ল Lohia হাসপাতালে আহত ছাত্রদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই রাহুল গান্ধী এবং তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোজা চলে যান রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে (RML Hospital)। সেখানে তাঁরা সোমবারের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
সংসদে আলোচনার দাবি ও স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক
এর আগে মঙ্গলবার সকালেই বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন রাহুল গান্ধী। জাতীয় রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন নিয়ে সংসদে বিশেষ আলোচনার দাবি জানান তিনি।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ এই বৈঠকের কথা জানিয়ে রাহুল লিখেছেন, “আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট: গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে এবং পরীক্ষার সংকট নিয়ে সরকারের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হতে হবে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈধ প্রশ্ন তোলার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। যদি দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে আলোচনা না হয়, তবে সেই সংসদের কার্যকারিতাই বা কী? বিরোধী দল কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর দাবিয়ে রাখতে দেবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।