বাগদান সেরে বাড়ি করেছিলেন, বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী তরুণ নেভি অফিসারের মর্মান্তিক মৃত্যু

মাত্র কয়েক দিন আগেই নিজের বাড়িতে বাগ্‌দান সেরেছিলেন। আর ঠিক দু’মাস পরেই বাজত বিয়ের সানাই। কিন্তু ইউক্রেনের ওডেশা উপকূলে রাশিয়ার নির্মম ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চিরকালের মতো থেমে গেল কেরলের তরুণ মার্চেন্ট নেভি অফিসার অখিল জয়ন-এর জীবন। তিনি যে পণ্যবাহী জাহাজে কর্মরত ছিলেন, সেটিই রুশ হামলার শিকার হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় অখিল-সহ মোট ৯ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে চার জনই ভারতীয়।

ভেঙে চুরমার এক যুবকের সাজানো স্বপ্ন

কেরলের কাসারগড় জেলার ভেলারিকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা অখিল ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা একটি ছোট বৈদ্যুতিক সামগ্রীর দোকান চালাতেন এবং মা ছিলেন বিমা সংস্থার এজেন্ট। পরিবারের একমাত্র ভরসা ও স্বপ্নপূরণের সারথি ছিলেন অখিল নিজেই।

  • সর্বনাশ হয়ে যাওয়া বাগদান: সম্প্রতি জাহাজ থেকে ছুটিতে বাড়ি এসে পরিবারের ঘনিষ্ঠ উপস্থিতিতে আলাপ্পুঝার এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী দু’মাস পরেই বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল।

  • অপূর্ণ রইল নতুন ঘরের স্বপ্ন: নতুন সংসারের জন্য বাড়ি তৈরির কাজ হাত ধরেছিলেন অখিল। ছুটিতে বাড়ি থাকাকালীন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেই বাড়ি নির্মাণের তদারকি করেছিলেন তিনি।

  • পরিবারের এক সদস্য জানান, ছুটির সময় অখিল বলেছিলেন যে সমুদ্রের এই কাজ তাঁর আর ভালো লাগছে না এবং তিনি অন্য চাকরির খোঁজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই নতুন জীবনের স্বপ্ন মাঝপথেই থমকে গেল।

বিশ্বরেকর্ডধারী এক প্রতিভাবান যুবক

স্থানীয়দের প্রিয়পাত্র অখিল অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র এবং মিশুকে স্বভাবের ছিলেন। শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, খেলাধুলাতেও তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘টাগ অব ওয়ার’ খেলায় দারুণ পরিচিত ছিলেন। এমনকী, একটি ‘ফিঙ্গার পুলিং’ প্রতিযোগিতায় তিনি বিশ্বরেকর্ডও গড়েছিলেন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দেন অখিল। চেন্নাই থেকে নটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা শেষ করে গত ছয় বছর ধরে তিনি সমুদ্রপথে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি ‘এভি গোল্ডেন লিও’ নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজে কর্মরত ছিলেন। ইউক্রেনের ওডেশা বন্দরের কাছে নোঙর করা অবস্থাতেই জাহাজটিতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।

শোকস্তব্ধ গ্রাম, ভারতের কড়া প্রতিবাদ

ই-মেলের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরটি পান অখিলের বৃদ্ধ বাবা-মা। এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা ভেলারিকুন্ডু গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, ভারতীয় নাগরিকদের এই মৃত্যুর ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। নিহত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর জেরে রাশিয়ার ওপর কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে ভারতে নিযুক্ত রুশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *