পার্লামেন্ট মার্চে তুলকালাম! কক্রোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে একাধিক মামলা দায়ের করল দিল্লি পুলিশ

দিল্লিতে ‘কক্রোচ জনতা পার্টির’ (CJP) সংসদ অভিমুখী প্রতিবাদ মার্চকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হিংসার ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, আরও দুটি মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। গত সোমবার (সোমবারের হিংসার ঘটনায়) জাতীয় রাজধানীতে এই উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে একটি মামলা করা হয়েছে নতুন দিল্লিতে অননুমোদিতভাবে ড্রোন ওড়ানোর অপরাধে। উল্লেখ্য, বর্তমানে সংসদের মনসুন অধিবেশন চলায় ওই এলাকায় সব ধরনের আকাশপথে যাতায়াত বা ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ। এছাড়া অন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তদন্তের সময় যথেষ্ট প্রমাণ হাতেনাতে পাওয়া গেছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বাকি দুটি মামলা সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, পুলিশকর্মীদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত।
কোন কোন থানায় মামলা রুজু হয়েছে?
কনট প্লেস, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং কর্তব্য পথ থানায় এই সমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর অধীনে আরও দুটি মামলা করতে পারে পুলিশ, যার মধ্যে থাকবে মারধর এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ। এফআইআর-এ নিষিদ্ধ অস্ত্র রাখা, অবৈধভাবে জমায়েত করা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
ঠিক কী ঘটেছিল সেদিনের বিক্ষোভে?
একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত সোমবার কেন্দ্রীয় দিল্লির সংসদ ভবনের দিকে মার্চ করেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর ফলে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF) বা সিআইএসএফ সংসদ চত্বরের গেটগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এমনকি সংসদ চত্বরে মোতায়েন কমান্ডোরাও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিয়ে পজিশন নেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি রোমহর্ষক করে তোলে।