পেট্রোলে ইথানল মেশানো নিয়ে বড় ঘোষণা! ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারের সাফাইয়ে স্বস্তি?

পেট্রোলে ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেশানো নিয়ে দেশজুড়ে চলা জল্পনা ও বিরোধীদের আক্রমণের মুখে বড় সাফাই দিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যসভায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণ বর্তমান ২০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভবিষ্যতে এই মাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং শিল্পখাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গাড়ির পারফরম্যান্স ও ক্ষতি নিয়ে সরকারের অবস্থান
ই২০ জ্বালানি ব্যবহার করার ফলে গাড়ি বা বাইকের ক্ষতি হচ্ছে—এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানান যে, গাড়ি নির্মাতা, অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন বা ভোক্তা গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো “ব্যাপক বা উল্লেখযোগ্য অভিযোগ” পাওয়া যায়নি।
যাচাইকৃত তথ্য: দেশে বর্তমানে ২০ কোটিরও বেশি দু-চাকার যান এবং ৩ কোটিরও বেশি পেট্রোল চালিত গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে বহু পুরনো যানবাহনও রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে ই২০ বা তার কাছাকাছি মিশ্রণের জ্বালানিতে চললেও ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কোনো নথিভুক্ত বা বড় ঘটনা ঘটেনি।
জ্বালানি দক্ষতা: পুরনো ই১০ (E10) ডিজাইনের গাড়িগুলোতে জ্বালানি দক্ষতায় সামান্য (প্রায় ৩-৫ শতাংশ) হ্রাস দেখা গেলেও, ই২০ জ্বালানি উচ্চতর অক্টেন এবং পরিচ্ছন্ন দহন প্রদান করে। এছাড়া প্রস্তুতকারকরাও এই জ্বালানি ব্যবহারকারী যানবাহনে ওয়ারেন্টি দেওয়া অব্যাহত রেখেছেন।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত লাভের খতিয়ান
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারের এই ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচি দেশের অর্থনীতি ও কৃষকদের জন্য দারুণ সুফল বয়ে এনেছে:
বৈদেশিক মুদ্র সাশ্রয়: ২০১৪-১৫ সাল থেকে এই উদ্যোগের ফলে ১.৯৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে।
আমদানি হ্রাস: অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার প্রায় ৩১৬ লক্ষ টন কমেছে।
দূষণ রোধ: প্রায় ৯৫২ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
কৃষকদের আয় বৃদ্ধি: এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের অতিরিক্ত আয় ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
খাদ্যশস্যের প্রাপ্যতা: সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই লক্ষ্যের কারণে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়েনি। জনবন্টন ব্যবস্থা ও বাফার স্টকের চাহিদা মেটানোর পরই কেবল উদ্বৃত্ত শস্য ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
জলের ব্যবহার: ডিস্টিলারিগুলো জিরো-লিকুইড-ডিসচার্জ ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হয় এবং আখের পাশাপাশি ভুট্টার ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে (২০২১-২২ সালের ০% থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ সালে তা প্রায় ৩৭% হয়েছে)।
মন্ত্রী আরও জানান যে, নির্দিষ্ট কিছু আউটলেটে কম-মিশ্রণ বা মিশ্রণহীন পেট্রোল বাধ্যতামূলক করার কোনো প্রস্তাব নেই। কারণ, পৃথক সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা করলে খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে পরিবেশ ও কৃষকদের আয়ের মূল সুবিধাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।