সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে কেন? সম্পত্তি ভাঙা রুখতে গিয়ে শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনার মুখে আবেদনকারী

সম্পত্তি ভাঙার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার আর্জি নিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আবেদনকারী। কিন্তু সোমবার শীর্ষ আদালত সেই আবেদনকারীর আর্জি তো খারিজ করলই, উল্টে হাইকোর্টকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসার প্রবণতা নিয়ে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করল আদালত।

মামলার প্রেক্ষাপট:
আবেদনকারী আইনজীবীর দাবি ছিল, তাদের সম্পত্তিটির নির্মাণ পরিকল্পনা যথাযথভাবে অনুমোদিত ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে, সম্পত্তিটি একটি পুকুর এলাকার ওপর নির্মিত, যা সঠিক নয়। আইনজীবী আদালতে আর্জি জানান, অনুমোদিত নকশা থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ সম্পত্তিটি ভাঙার তোড়জোড় করছে, তাই জরুরি ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ এই আরজির প্রেক্ষিতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দেবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আজ যদি সম্পত্তিটি সম্পূর্ণ ভেঙেও ফেলা হয়, তবুও আমি (এখনই) কোনো আদেশ দেব না।”

কেন এই কঠোর অবস্থান?
আদালত আবেদনকারীর উদ্দেশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, কোনো প্রতিকারের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টে না গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে চলে আসার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, এই ধরণের মামলা আগে হাইকোর্টে উত্থাপন করা উচিত। আইনত প্রতিকারের যে ধাপ বা প্রক্রিয়া রয়েছে, তা লঙ্ঘন করে সরাসরি সর্বোচ্চ আদালতে চলে আসা বাঞ্ছনীয় নয়।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং আবেদনকারীকে হাইকোর্টে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ, সম্পত্তি ভাঙার মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও আদালত কোনো শর্টকাট বা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয়। এই ঘটনাটি ফের মনে করিয়ে দিল যে, বিচারবিভাগীয় কাঠামো অনুযায়ী নিম্নতর আদালত বা হাইকোর্টের মাধ্যমে আইনি লড়াই শুরু করাই নিয়ম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *