দিল্লি দাঙ্গা মামলা: অভিযুক্তের নথি দেখার অধিকারে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, বড় ধাক্কা কলিতার

২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা ও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার শুনানিতে একটি বড় আইনি মোড় এল। দিল্লি হাইকোর্টের একটি বিতর্কিত নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্ট এর আগে অভিযুক্তদের অব্যবহৃত নথি (Unused Documents) পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছিল, যা আজ শীর্ষ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রইল।

মামলার প্রেক্ষাপট:
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নিনা বনসাল কৃষ্ণা গত ৬ই জুন এক রায়ে ছাত্রকর্মী কলিতাকে পুলিশের হেফাজতে থাকা কিছু অব্যবহৃত নথি দেখার অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে, সিএএ-এনআরসি বিক্ষোভের ভিডিও বা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল আদালত। দিল্লি পুলিশ এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেলের যুক্তি:
সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘দেবেন্দ্রনাথ পধি’ এবং ‘সরলা গুপ্তা’ মামলার রায় অনুযায়ী, অভিযোগ গঠনের (Framing of charges) স্তরে থাকা কোনো অভিযুক্তকে এমন নথি পাওয়ার অধিকার দেওয়া যায় না যা তদন্তকারী সংস্থা মূল অভিযোগপত্রে ব্যবহার করেনি। সলিসিটর জেনারেলের অভিযোগ, বিচারের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতেই এই ধরনের আবেদন জানানো হচ্ছে।

অভিযুক্তের দাবি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ:
কলিতার আইনজীবীর তরফে দাবি করা হয় যে, তাদের কাছে এমন ভিডিও রয়েছে যা প্রমাণ করে প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে পাথর ছোড়ার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারপতি অরবিন্দ কুমার কড়া অবস্থান নিয়ে বলেন, “বিচার পর্যায়ে এসব আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি হতে পারে, কিন্তু এখন তা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এই ধরনের আবেদনে বিচারপ্রক্রিয়া ১০ বছরেও শেষ হবে না।” শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অভিযুক্তরা এই পর্যায়ে সব নথি পাওয়ার অধিকারী নন এবং বিতর্কিত আদেশটি আপাতত স্থগিত থাকবে।

২০২০-র দিল্লি দাঙ্গা:
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ভয়াবহ দাঙ্গায় ৫৩ জন প্রাণ হারান এবং ৭০০-র বেশি মানুষ আহত হন। এই ঘটনায় উমর খালিদ, শারজিল ইমাম, নাতাশা নারওয়াল ও তাহির হুসেনের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ (UAPA) আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দাঙ্গার এই বিশাল আইনি লড়াই আপাতত শীর্ষ আদালতের নজরে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *