অবশেষে ডেঙ্গু জয়ের হাতিয়ার! ভারতে এল প্রথম টিকা ‘কিউডেঙ্গা’, মিলবে কি মুক্তি?

দশকের পর দশক ধরে ডেঙ্গুর দাপটে বিপর্যস্ত ভারত। প্রতি বছর বর্ষা এলেই ডেঙ্গুর কামড়ে নাজেহাল দেশবাসী। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার ভারতের বাজারে আসতে চলেছে ডেঙ্গুর প্রথম ভ্যাকসিন—‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA)। জাপানি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তাকেডা (Takeda)-র তৈরি এই ভ্যাকসিনকে সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে ভারতের ড্রাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কেন এই অনুমোদন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ?
বিশ্বের মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতে। গত ২০ বছরে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতদিন ডেঙ্গু মোকাবিলার একমাত্র উপায় ছিল মশারি ব্যবহার বা মশা নিধন। ভ্যাকসিনের অভাবে রোগীকে শুধুমাত্র উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হতো। এই প্রথম একটি প্রতিষেধক বাজারে আসায় ডেঙ্গু লড়াইয়ে ভারত এক নতুন যুগে প্রবেশ করল।
কিউডেঙ্গা-র বিশেষত্ব কী?
সব ধরনের স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা: এটি একটি ‘টেট্রাভ্যালেন্ট লাইভ-অ্যাটেনুয়েটেড’ ভ্যাকসিন, যা ডেঙ্গুর চারটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে (DENV-1, DENV-2, DENV-3 এবং DENV-4) কার্যকরী সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
পূর্বের সংক্রমণের প্রয়োজন নেই: আগেকার ভ্যাকসিনের (যেমন- ডেঙ্গভ্যাক্সিয়া) ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল যে, যারা আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়নি তাদের জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কিন্তু কিউডেঙ্গার ক্ষেত্রে তেমন কোনো জটিলতা নেই। কোনো ব্যক্তি আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা পরীক্ষা না করেই এটি নেওয়া সম্ভব।
ডোজের নিয়ম: এই টিকা দুই ডোজের একটি কোর্স। দুই ডোজের মাঝে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হবে।
ভারতে উৎপাদন ও সহজলভ্যতা
টিকা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জাপানি সংস্থা তাকেডা হায়দ্রাবাদের নামি ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ‘বায়োলজিক্যাল ই’ (Biological E)-এর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব করেছে। এই চুক্তির আওতায় হায়দ্রাবাদে বছরে ৫ কোটি ডোজ টিকা তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে ভারতে এর অভাব হবে না বলে আশা করা যাচ্ছে।
সাফল্যের পরিসংখ্যান
২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে আসার পর এখন পর্যন্ত ৪৩টি দেশে কিউডেঙ্গা অনুমোদিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লক্ষের বেশি ডোজ দেওয়া হয়েছে। এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল অনুযায়ী, এটি গুরুতর উপসর্গ এবং হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
এখন প্রশ্ন—সাধারণ মানুষ কবে পাবে?
ভ্যাকসিন অনুমোদিত হলেও, এটি সরকারি টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, দাম কত হবে, বা কোন বয়সের মানুষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি পাবে—সেই চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মশা নিধন অভিযানের পাশাপাশি এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা ও মৃত্যুর হার নাটকীয়ভাবে কমানো সম্ভব হবে।