হাসপাতালে অনশনরত সোনম ওয়াংচুক, সংসদ অভিযানে যোগ দিতে মরিয়া আর্জি!

নিট (NEET) কাণ্ড ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত রাজধানী। যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও ব়্যাফ নামিয়ে ধরপাকড়ের মাঝেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শনিবার তাঁকে যন্তর মন্তর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও, অনশনে অটল রয়েছেন তিনি।
হাসপাতাল থেকেও আন্দোলনের ডাক
সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও দমে যাননি সোনম ওয়াংচুক। স্ত্রী জানিয়েছেন, শুধুমাত্র নুন-জল খেয়ে রয়েছেন তিনি, কোনো ধরনের চিকিৎসাও নিতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে আজ সংসদ ভবন অভিযানের কর্মসূচিতে যোগ দিতে চেয়ে হাসপাতালের ডিরেক্টরকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে ওয়াংচুক লিখেছেন, “আমি এখন শারীরিকভাবে বেশ ভালো রয়েছি এবং আমার সমস্ত মেডিকেল রিপোর্টও স্বাভাবিক। দয়া করে আমাকে কিছু সময়ের জন্য হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিন, যাতে আমি সংসদ অভিযানে অংশগ্রহণ করতে পারি।” শিক্ষাব্যবস্থার গলদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনকে তিনি যে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়েও বড় মনে করছেন, তা তাঁর এই আবেদনেই স্পষ্ট।
দিল্লিতে কড়া বিধিনিষেধ
অন্যদিকে, এদিন কার্যত দুর্গনগরীতে পরিণত হয়েছে নয়াদিল্লি। অননুমোদিত সংসদ অভিযান ঠেকাতে শহরে জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৬৩ ধারা। দিল্লি পুলিশের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে:
যন্তর মন্তর ছাড়া অন্য কোনো এলাকায় বিক্ষোভ বা জমায়েত করা যাবে না।
সংসদ ভবন অভিযানের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের বেআইনি মিছিলে অংশ না নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের পরিস্থিতি
‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র কর্মী-সমর্থকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় যন্তর মন্তর চত্বরে উত্তেজনা চরমে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশি হামলা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। অন্যদিকে, প্রশাসন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দোহাই দিয়ে কড়াকড়ি বজায় রেখেছে।
সোনম ওয়াংচুককে পুলিশি হেফাজতে বা হাসপাতালে রেখে সরকার কতক্ষণ আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোনম ওয়াংচুকের এই বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেও নজর রয়েছে সব মহলের।