অঝোরে কাঁদলেন স্কালোনি! স্পেনের কাছে হারের পর মাঝপথেই ছাড়লেন সাংবাদিক বৈঠক

টানা দুবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল আর্জেন্টিনার। অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হতেই ভেঙে পড়ল আলবিসেলেস্তেদের স্বপ্ন। মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও এখন ফুটবল বিশ্বে বেশি চর্চিত হচ্ছে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির কান্নার দৃশ্য। ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে একসময় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি, যা স্পর্শ করেছে কোটি কোটি ফুটবল প্রেমীর হৃদয়।
কী বললেন বিধ্বস্ত স্কালোনি?
ফাইনালে হারের পর সাংবাদিক বৈঠকে স্কালোনি জানান, এই পরাজয় তাঁর আত্মাকে কষ্ট দিচ্ছে। দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “এই হার আমার আত্মায় আঘাত করেছে। আমি অত্যন্ত দুঃখিত।” তবে হারের হতাশাতেও নিজের দলের খেলোয়াড়দের লড়াই, আত্মত্যাগ এবং মানসিক দৃঢ়তার ভূয়সী প্রশংসা করতে ভোলেননি তিনি। স্কালোনি বলেন, “আমি আমার দল নিয়ে গর্বিত। শুধু জিততে নয়, হারকেও মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করতে জানতে হয়।”
মেসিকে নিয়ে বলতে গিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়লেন
সাংবাদিক বৈঠকে লিওনেল মেসির কথা উঠতেই স্কালোনির কণ্ঠে ছিল আবেগ। মেসিকে কেবল একজন ফুটবলার হিসেবে নয়, ‘বিশ্ব ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি’ বলে অভিহিত করেন তিনি। মেসিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে স্কালোনি জানান, এই বিশ্বকাপ অভিযান আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই কথা বলার সময়ই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং চোখের জল মুছতে মুছতে সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
স্কালোনির ভবিষ্যৎ কি অনিশ্চিত?
২০২২ সালে স্কালোনির হাত ধরেই বিশ্বজয় করেছিল আর্জেন্টিনা। ২০২৬-এও দলকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তুলে তিনি প্রমাণ করেছিলেন কেন তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ। কিন্তু শেষ ধাপে এসে স্পেনের কাছে পরাজয় সব হিসেব উল্টে দিল। ফাইনালে হারের পর থেকেই স্কালোনির কোচ হিসেবে ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও তিনি নিজে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, বরং দলের পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছেন।
ফুটবল মানেই আবেগ
সামাজিক মাধ্যমে স্কালোনির চোখের জলের ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী এবং প্রাক্তন ফুটবলাররা স্কালোনির প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করছেন। এই চোখের জল যেন পুনরায় মনে করিয়ে দিল, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি আবেগ, সম্পর্ক এবং চূড়ান্ত আত্মত্যাগের এক দীর্ঘ মহাকাব্য।