রেকর্ড ভেঙে বিশ্বজয়ী স্পেন! কোচ থেকে দল, কী কী ইতিহাস গড়ল দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা?

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল শেষে ফুটবল বিশ্ব পেল নতুন চ্যাম্পিয়ন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ পেল স্পেন। আর এই জয়ের সঙ্গেই রেকর্ড বইয়ের পাতায় নিজেদের নাম উজ্জ্বল করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
রেকর্ড ভাঙা স্পেনের জয়যাত্রা:
স্পেনের এই জয় কেবল একটি ট্রফি জয় নয়, বরং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (Guinness World Records)-এর মতে, এটি রেকর্ডের এক বিশাল সমাহার। গিনেস কর্তৃপক্ষ স্পেনের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর যে পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে, তা রীতিমতো ঈর্ষণীয়:
সবচেয়ে কম গোল হজম: টুর্নামেন্টে ৮টি ম্যাচ খেলে স্পেন গোল খেয়েছে মাত্র ১টি, যা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কোনো দলের জন্য নজিরবিহীন।
সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট: পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৭টি ম্যাচে স্পেন কোনো গোলই খায়নি।
প্রবীণতম কোচ: লুইস দে লা ফুয়েন্তের (Luis de la Fuente) বয়স এখন ৬৫ বছর, তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে ট্রফি জয়ী কোচ। ইউরো ২০২৪-এর পর বিশ্বকাপ জয় তাঁর মুকুটে নতুন পালক যোগ করল।
অজেয় যাত্রা: টানা ৩৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত থেকে স্পেন প্রমাণ করল কেন তারা বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সেরা।
ফাইনালে তরুণদের দাপট:
স্পেনের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন দুই কিশোর তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং পাউ কুবর্সি। ১৯ বছর বয়সী এই দুই ফুটবলার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে বিজয়ী দলের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। ইতিহাসের পাতায় তাঁরা চতুর্থ এবং পঞ্চম কিশোর হিসেবে এই বিরল সম্মানে ভূষিত হলেন।
আর্জেন্টিনার লড়াই ও শেষ পরিণতি:
ফাইনালে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ১২টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে অনেকক্ষণ লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন। তবে ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্ট থেকে ফেরান তোরেসের গোলটি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এঞ্জো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দল নিয়ে আর্জেন্টিনা আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি।
ব্যর্থতার দিনেও মেসি গড়েছেন ব্যক্তিগত মাইলফলক। ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে তিনি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা প্রবীণতম আউটফিল্ড খেলোয়াড় হয়েছেন। এছাড়াও ক্যাফুর পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার বিরল কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
ইউরো ২০২৪-এর পর বিশ্বকাপ জয়—স্পেনের এই আধিপত্য আগামী দিনে বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক যুগের সূচনা করল।