এবার ভারতের পকেটে প্লাস্টিকের নোট! ১০ ও ২০ টাকার নোট দিয়ে শুরু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বড় পরীক্ষা

খুব শীঘ্রই ভারতের নোটের জগতে আসতে চলেছে বড় পরিবর্তন। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) এবার কাগজের নোটের পরিবর্তে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালুর প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০ ও ২০ টাকার নোটে এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে বলে খবর।

কেন এই পরিবর্তনের পথে আরবিআই?
বর্তমানে প্রচলিত ভারতীয় নোটগুলো সুতি-ভিত্তিক কাগজে ছাপা হয়, যা খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। আরবিআই-এর নতুন পরিকল্পনার মূল কারণগুলো হলো:

দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব: পলিমার নোট কাগজের নোটের তুলনায় অন্তত ২ থেকে ৪ গুণ বেশি সময় টিকে থাকে। ফলে ঘনঘন নোট ছাপানোর খরচ অনেকটাই কমে আসবে।

জাল নোটের মোকাবিলা: প্লাস্টিকের নোটে স্বচ্ছ অংশ (Window), উন্নত হলোগ্রাফিক নকশা ও বিশেষ কালি ব্যবহার করা সম্ভব, যা নকল করা প্রায় অসম্ভব।

পরিচ্ছন্নতা: পলিমার নোট ময়লা কম শোষণ করে এবং আর্দ্রতা প্রতিরোধী। ফলে এই নোটগুলো অনেক বেশি পরিষ্কার থাকে এবং সহজে ছিঁড়ে যায় না।

অর্থনৈতিক সাশ্রয়: শুরুতে তৈরির খরচ কিছুটা বেশি হলেও, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রার আয়ুষ্কাল বেশি হওয়ায় সামগ্রিক কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের খরচ কমবে।

কী এই পলিমার নোট?
এটি সাধারণত ‘বাইএক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন’ (বিওওপি) নামক এক ধরণের বিশেষ প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়ে তৈরি হয়। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলো ইতিমধ্যে এই পলিমার ব্যাঙ্কনোট ব্যবহার করছে। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রথম এই প্রযুক্তি চালু করে।

সাধারণ মানুষের মনে কি আতঙ্ক ছড়ানো উচিত?
উত্তর হলো, একেবারেই না। এটি আপাতত একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প। আপনার কাছে থাকা বর্তমান কাগজের নোটগুলোর বৈধতা বজায় থাকবে এবং এগুলো অবিলম্বে বাতিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আরবিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, এই প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়ন করার পরই ভবিষ্যতে বৃহত্তর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৩ এবং ২০১৫ সালেও পলিমার নোট নিয়ে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের পদক্ষেপটি অনেক বেশি সুসংগঠিত এবং বিশদ দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শুরু হওয়ায় এটি নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *