অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে তুমুল বিতর্ক! কাটমানি নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন খোদ বিজেপি বিধায়ক

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অস্বস্তি: রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। জুন ও জুলাই মাসে অনেক মহিলার অ্যাকাউন্টে সরকারি সহায়তা পৌঁছালেও, উপভোক্তাদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ফর্ম ফিলাপ করেও তাঁরা টাকা পাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও রাজ্যজুড়ে যোগ্য উপভোক্তাদের বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ দানা বাঁধছে। এরই মধ্যে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার।
বিধায়কের নিশানায় প্রশাসনিক দুর্নীতি
শনিবার এক মতুয়া সম্মেলনের মঞ্চে অসীম সরকার সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার নাম নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতি চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত, বিডিও এবং এসডিও অফিসে এখনও আগের মতোই ‘ঘুঘুর বাসা’ রয়ে গেছে। অসীমবাবুর দাবি, “চটিচাটার দল এখনও চেয়ার দখল করে বসে আছে, যার ফলে যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”
‘কাটমানি’ ও স্বজনপোষণের অভিযোগ
মঞ্চে উপস্থিত রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়াকে উদ্দেশ্য করে বিধায়ক অসীম সরকার বলেন, “বিজেপি কর্মীদের বাড়ির মহিলারা টাকা পাচ্ছেন না, অথচ তৃণমূল সমর্থক পরিবারের সদস্যদের নাম আগে তোলা হচ্ছে। এর পেছনে কিছু অফিসারের যোগসাজশ রয়েছে।”
তিনি আরও বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়া হচ্ছে। উপভোক্তাদের বলা হচ্ছে, তিন হাজার টাকা দিলে ৫০০ টাকা কমিশন দিতে হবে।”
প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
বিধায়কের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তিনি সরাসরি রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রীর কাছে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে বঞ্চিত সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মন্তব্য ঘিরে চরম অস্বস্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আগস্ট মাসে নতুন করে টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা। এখন দেখার বিষয়, সরকারের তরফে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় কি না।