দিঘা-পুরীর ভিড় ভুলে বর্ষার ছুটিতে কোথায় যাবেন? কলকাতার কাছেই লুকিয়ে ওড়িশার এই ‘স্বর্গ’!

বাঙালির উইকএন্ড মানেই দিঘা, মন্দারমণি বা পুরীর চেনা ভিড়। কিন্তু শহরের যান্ত্রিকতা থেকে দূরে বর্ষার বৃষ্টিতে সমুদ্রের আদিম রূপ উপভোগ করতে চাইলে, আপনার জন্য অপেক্ষা করছে এক জাদুকরী ঠিকানা—ওড়িশার ‘পরিখী’ (Parikhi)। পর্যটকদের লাইমলাইট থেকে এখনো দূরে থাকা এই সৈকতটি আপনার বর্ষার ছুটিকে করে তুলবে স্মরণীয়।

কেন যাবেন পরিখী?
দীঘা বা উদয়পুরের খুব কাছে হলেও, ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় অবস্থিত এই সৈকতটি সম্পূর্ণ নির্জন। এখানে নেই কোনো কংক্রিটের বাঁধ বা পর্যটকদের কোলাহল। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত রূপোলি বালুকাবেলা, ঝাউবনের সারি আর সমুদ্রের গর্জন—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আপনাকে হাতছানি দেবে। বর্ষার মেঘলা আকাশে উত্তাল সমুদ্রের রূপ এখানে আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে। ভাগ্য ভালো থাকলে সৈকতের বালিতে লাল কাঁকড়াদের দৌড়ঝাঁপও দেখতে পাবেন।

কী কী করতে পারেন এখানে?
১. নির্জনতা উপভোগ: মাইলের পর মাইল সমুদ্রতটে একাকী হেঁটে বেড়ানো বা সমুদ্রের অস্ফুট শব্দ শোনার অভিজ্ঞতা এখানে অমূল্য।
২. অ্যাডভেঞ্চার ট্রিপ: পরিখীর পাশেই রয়েছে ওড়িশার অন্যতম জনপ্রিয় অফবিট সৈকত ‘ডাগর’ (Dagara Beach)। এছাড়া ঘুরে আসতে পারেন কাসাফাল (Kasafal) মাছ ধরার বন্দর ও মোহনা থেকে।
৩. সামুদ্রিক মাছের স্বাদ: স্থানীয় মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে টাটকা সামুদ্রিক মাছ কিনে ওড়িয়া স্টাইলে রান্না করে খাওয়ার স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

কীভাবে পৌঁছাবেন?

ট্রেনে: হাওড়া বা কলকাতা থেকে বালেশ্বর (Balasore) বা জলেশ্বর (Jaleswar) স্টেশনে নামুন। এরপর গাড়ি বা অটো ভাড়া করে অনায়াসেই পৌঁছে যাবেন সৈকতে।

সড়কপথে: কলকাতা থেকে খড়্গপুর ও জলেশ্বর হয়ে জাতীয় সড়ক ধরে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

থাকার ব্যবস্থা:
এটি একটি অফবিট ডেস্টিনেশন হওয়ায় এখানে খুব বড় রিসোর্ট না থাকলেও, থাকার জন্য বেশ কিছু আরামদায়ক হোমস্টে ও ওড়িশা পর্যটনের গেস্ট হাউস রয়েছে। তবে বেশি ভিড় থাকলে পার্শ্ববর্তী ডাগর সৈকতের রিসোর্টগুলোতেও অনায়াসে থাকতে পারেন।

একঘেয়ে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তি পেতে এই সপ্তাহান্তেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন ওড়িশার এই লুকিয়ে থাকা রত্ন ‘পরিখী’র উদ্দেশ্যে। বর্ষার মেঘ-বৃষ্টি আর সমুদ্রের লুকোচুরি আপনাকে নিরাশ করবে না।

ভ্রমণপিপাসু পাঠকদের জন্য টিপস: যেহেতু এটি অফবিট জায়গা, তাই যাওয়ার আগে স্থানীয় হোমস্টেগুলোতে অগ্রিম যোগাযোগ করে নেওয়া ভালো। বৃষ্টির সময় সমুদ্রের কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও গাইডদের সতর্কবার্তা অবশ্যই মেনে চলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *