নিয়োগ জট কাটাতে তৎপর রাজ্য! সব নিয়োগকারী সংস্থাকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার। কোন নিয়োগ কতদূর এগিয়েছে, কোথায় জট রয়েছে এবং বর্তমানে কোন স্তরে কাজ আটকে আছে—এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়ে রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগকারী সংস্থাকে ৭ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিল অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর।
কেন এই উদ্যোগ?
সুপ্রিম কোর্টে ওবিসি মামলা থেকে রাজ্য সরকারের সরে আসার পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত মামলার জেরে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা এসেছিল, তা কাটাতে রাজ্য সরকার এখন কোমর বেঁধে নেমেছে।
কাদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে?
অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর শিক্ষা দফতরের অধীনে থাকা একাধিক নিয়োগকারী সংস্থাকে চিঠি পাঠিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
কলেজ সার্ভিস কমিশন ও মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন।
পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)।
স্বাস্থ্য নিয়োগ বোর্ড ও কো-অপারেটিভ সার্ভিস কমিশন।
পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড ও যৌথ প্রবেশিকা পরীক্ষার বোর্ড।
কী কী তথ্য জানতে চেয়েছে সরকার?
চিঠিতে তিনটি প্রধান পর্যায়ের নিয়োগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে:
১. ২২ মে ২০২৪, কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের আগে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া।
২. ১০ জুন ২০২৫ থেকে ১৮ মে ২০২৬-এর মধ্যে শুরু হওয়া নিয়োগ।
৩. ১৮ মে ২০২৬-এর পর শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান হালচাল।
মামলার প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত বছর কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি বাতিল হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও, বর্তমান রাজ্য সরকার মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আর সেই মামলা চালাবে না। সেই মতো রাজ্য ও অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দিলেও আদালত স্পষ্ট করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কেউ চাইলে আলাদাভাবে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।
এই জটিলতা কাটানোর পরেই রাজ্য সরকারের এই তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা পড়ার পর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কি জট কাটবে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ।