ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বড় হামলার ছক ট্রাম্পের! ইজরায়েলে পাঠানো হচ্ছে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানকে চাপে ফেলতে ওয়াশিংটন একগুচ্ছ নতুন সামরিক পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। অ্যাক্সিওস (Axios)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন ইজরায়েলে আরও কয়েক ডজন ‘এরিয়াল রিফুয়েলিং’ বা আকাশপথে জ্বালানি ভরার বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ও কৌশল:
সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা নতুন সামরিক পরিকল্পনাগুলোতে ইরানের ভূ-রাজনৈতিক ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। জানা গিয়েছে, কেবলমাত্র হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সীমাবদ্ধ না থেকে ইরানের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই তালিকায় রয়েছে:

পারমাণবিক স্থাপনা: ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনা: ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলিকে নিষ্ক্রিয় করা।

বিদ্যুৎকেন্দ্র: ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়ে দেশটির প্রশাসনিক ও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া।

কেন এই প্রস্তুতি?
ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে এমন এক মাত্রার ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া, যাতে তারা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বাধ্য হয় এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর শর্ত মেনে নিতে সম্মত হয়। এই কৌশল বাস্তবায়নে আকাশপথে জ্বালানি ভরার বিমানগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, কারণ এগুলি যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানকে দীর্ঘ সময় আকাশে থেকে দীর্ঘ পাল্লার অভিযানে সাহায্য করবে।

মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পরামর্শ:
পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। এই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরিতে যুক্ত রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

বর্তমানে তেল আভিভ ও রামন বিমানবন্দরে আমেরিকার প্রায় ৬০টি জ্বালানি ভরার বিমান মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য এই সংখ্যা আরও বাড়িয়ে যুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়ের শক্তিতে ফিরে যাওয়া। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প সামরিক অভিযান জোরদার করার চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন ও আশঙ্কাজনক অধ্যায় শুরু করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *