পারফিউমের টাকা বাঁচান! বর্ষার ভ্যাপসা গরমে ঘামের গন্ধ দূর করতে মাখুন রান্নাঘরের এই ১টি জাদুকরী জিনিস

বর্ষাকাল মানেই আকাশ মেঘলা, আর সাথে প্যাচপ্যাচে ভ্যাপসা গরম। এই আবহাওয়ায় সামান্য রোদে বেরোলে কিংবা রান্নাঘরে কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ঘামে ভিজে পোশাক লেপ্টে যায়। ঘামের এই অস্বস্তির সঙ্গে যোগ হয় শরীরের তীব্র দুর্গন্ধ, যা অনেক সময় জনসমক্ষে আমাদের চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। অনেকেই বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে নামী দামী পারফিউম বা ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন, কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, অফিসে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সেই কৃত্রিম সুগন্ধ উবে যায়।
আবার যারা সারাদিন বাড়িতে থাকেন, তাদের পক্ষে বারবার পারফিউম মাখাও সম্ভব নয়। তবে রূপচর্চা ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের এই জেদি দুর্গন্ধ দূর করতে সবসময় কেমিক্যালযুক্ত কৃত্রিম সুগন্ধির ওপর নির্ভর করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের হাতের কাছে থাকা কয়েকটি অত্যন্ত সাধারণ ও প্রাকৃতিক উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করলেই ঘামের দুর্গন্ধকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নিচে এমন ৫টি দারুণ কার্যকরী প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার বিধি আলোচনা করা হলো:
১. গোলাপজলের প্রাকৃতিক সুবাস
গোলাপজল শুধু ত্বকের ক্লান্তি দূর করে সতেজতাই আনে না, এটি প্রাকৃতিকভাবে শরীরের দুর্গন্ধ কমাতেও ওস্তাদ। খাঁটি গোলাপজলে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যাস্ট্রিনজেন্ট উপাদান, যা দুর্গন্ধ ছড়ানোর জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রুখে দেয়।
ব্যবহারের নিয়ম: ১০০ মিলি খাঁটি গোলাপজলের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ বিশুদ্ধ জল মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। প্রতিদিন স্নানের পর বগল, ঘাড় এবং হাঁটুর পেছনে এটি স্প্রে করে নিন। দীর্ঘক্ষণ সতেজ অনুভূতি বজায় থাকবে।
২. ফিটকিরির জাদুকরী গুণ
প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার বহু প্রাচীন। এর শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য শরীরের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু নিমেষে ধ্বংস করে। এছাড়া এটি ত্বকের লোমকূপ সাময়িকভাবে সংকুচিত করে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াও কিছুটা কমিয়ে দেয়।
ব্যবহারের নিয়ম: স্নান শেষ করার পর এক টুকরো ফিটকিরি সামান্য জলে ভিজিয়ে বগল, ঘাড় বা পায়ের ভাঁজে আলতো করে ঘষে নিন। এরপর আর জল দিয়ে ধোওয়ার প্রয়োজন নেই, স্বাভাবিকভাবেই শুকিয়ে যেতে দিন।
৩. চন্দন গুঁড়োর শীতলতা
চন্দনের মনোরম সুগন্ধ এবং শীতল ভাব ত্বকের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক। এটি ত্বকের অতিরিক্ত আর্দ্রতা বা ঘাম শুষে নেয় এবং শরীরে দীর্ঘক্ষণ একটি মৃদু সুবাস ধরে রাখে।
ব্যবহারের নিয়ম: ২ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে প্রয়োজনমতো গোলাপজল মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। বগল, ঘাড় বা শরীরের যেসব অংশে বেশি ঘাম হয়, সেখানে প্রলেপটি লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। এরপর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৪. নিমপাতার শক্তিশালী জীবাণুনাশক
নিমের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও জীবাণুনাশক গুণের কথা আমরা সবাই জানি। নিয়মিত নিমপাতার ব্যবহার ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি একদম কমিয়ে দেয়, যার ফলে ঘাম হলেও তা থেকে কোনো দুর্গন্ধ ছড়ায় না।
ব্যবহারের নিয়ম: এক মুঠো তাজা নিমপাতা ২ লিটার জলে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। জল ঠান্ডা হলে তা ছেঁকে নিয়ে প্রতিদিনের স্নানের জলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ৩-৪ দিন এই অভ্যাস করলে ম্যাজিকের মতো উপকার পাবেন।
৫. কর্নস্টার্চ ও অ্যারারুট পাউডারের বিশেষ ট্যালকম
যাদের অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার ধাত রয়েছে, তাদের জন্য এই ঘরোয়া মিশ্রণটি আশীর্বাদের মতো। এটি ঘামগ্রন্থি বন্ধ না করেই ত্বকের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও তেল শুষে শরীরকে একদম শুষ্ক রাখে।
ব্যবহারের নিয়ম: আধ কাপ অ্যারারুট পাউডারের সঙ্গে ১ চা চামচ কর্নস্টার্চ এবং ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো খুব ভালো করে মিশিয়ে একটি পাউডার বানিয়ে নিন। স্নানের পর শরীর ভালো করে মুছে পরিষ্কার ও শুকনো ত্বকে এই ঘরোয়া ট্যালকম পাউডারটি হালকা করে লাগিয়ে নিন।
বাইরের যত্নের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও আনুন বদল:
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দুর্গন্ধের সঙ্গে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের গভীর সংযোগ রয়েছে। খাবারে অতিরিক্ত রসুন, পেঁয়াজ, অ্যালকোহল, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত প্রসেসড ফুড এবং চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস শরীরের ভেতরের টক্সিন বাড়িয়ে দেয়, যা ঘামের দুর্গন্ধ আরও তীব্র করে তোলে। তাই এই ভ্যাপসা গরমে সুস্থ ও সুবাসিত থাকতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় বেশি করে তাজা ফল ও সবুজ শাকসবজি রাখুন।