হরমুজ প্রণালী কি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে? ইরানকে রুখতে পেন্টাগনের সামনে বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী রুট ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই পথ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন—বাস্তবতা আরও জটিল।
কেন শুধু বিমান হামলা যথেষ্ট নয়?
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করা অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নৌচলাচল নিরাপদ করতে হলে হয় ধারাবাহিক নৌ-নিরাপত্তা অভিযান চালাতে হবে, নয়তো বড় ধরনের স্থল অভিযানের পথ বেছে নিতে হবে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে অনেক জাহাজ কোম্পানিই এখন এই পথে যাতায়াত কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক শক্তির হিসাব-নিকাশ:
পেন্টাগন ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী:
সেনা মোতায়েন: ইতোমধ্যেই ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ৫,০০০ মেরিন সেনা ও ২,০০০ প্যারাট্রুপার মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়তি আরও ১০,০০০ স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে প্রায় ১৭,০০০-এর বেশি মার্কিন সৈন্য ইরানের দোরগোড়ায় থাকতে পারে।
নৌ-প্রহরী মিশনের জটিলতা: বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রতিটি তেল ট্যাঙ্কার সুরক্ষার জন্য অন্তত দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রয়োজন। পাঁচ থেকে দশটি ট্যাঙ্কারের একটি কনভয় সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ১২টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও লজিস্টিক্যালি কঠিন।
স্থল অভিযান: এক বিপজ্জনক জুয়া
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিতে যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি স্থল অভিযানের পথে হাঁটে, তবে তা হতে পারে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল।
ইরানের প্রস্তুতি: ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের ১,৯০,০০০ সৈন্য এবং বিশাল নিয়মিত বাহিনী যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য দীর্ঘকাল ধরে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
ঝুঁকির কারণ: মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে স্থল অভিযানের সময় মার্কিন সেনারা চারপাশ থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
উপসংহার: হরমুজের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান হতে পারে। পেন্টাগন ও ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত কোন কৌশলে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর বিশ্ববাসীর।