‘নেশাগ্রস্ত গেটম্যানের ভুলেই শেষ ৫টি প্রাণ!’ -ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এলাকাবাসীর

দুমড়েমুচড়ে যাওয়া স্কুল ভ্যানটি তখন লাইনের উপর আড়াআড়ি ভাবে পড়ে আছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নীল-গোলাপি স্কুল ব্যাগ, জলের বোতল আর ছোট ছোট জুতো। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুরের মধ্যবর্তী রেলগেটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হলো ঘটনাস্থল। এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচে।

হাসপাতালের সামনে হাহাকার মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমার্জেন্সির সামনে এখন শুধুই স্বজনদের আর্তনাদ। ওয়ার্ডের বাইরে আঁচলে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ইশানুর রহমানের দিদা বদরুন্নেসা বিবি। নাতির শারীরিক অবস্থার কথা ভেবেই চোখের জল বাঁধ মানছে না তাঁর। কেবল ইশানুর নয়, হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আরও আহত পড়ুয়া ও গাড়ির চালক। কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস।

গেটম্যানের গাফিলতি নাকি নেশার ঘোরে ভুল? দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনিসুজ্জামান জানান, “হাওড়া-নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পরেই গেটম্যান লেভেল ক্রসিং খুলে দেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল তীব্র গতিতে এসে ভ্যানটিকে পিষে দেয়।” স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গেটম্যান নাকি ঘটনার সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন। এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই পাঁচ-পাঁচটি তাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল বলে দাবি স্থানীয়দের।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও তদন্তের নির্দেশ ইতিমধ্যেই বহরমপুর থানার পুলিশ কর্তব্যে চরম গাফিলতির অভিযোগে গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনার ভয়াবহতা বিচার করে হাওড়া স্টেশন থেকে এডিআরএম-এর নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।

আর্থিক সহায়তা ঘোষণা নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছে সরকার ও রেল কর্তৃপক্ষ:

  • পূর্ব রেল: মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে।

  • রাজ্য সরকার: প্রতিটি পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নির্দোষ শিশুদের স্কুল যাওয়ার পথেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছে না মুর্শিদাবাদ। রেল গেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা এখন তলানিতে। তদন্তে গেটম্যানের নেশাগ্রস্ত থাকার অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছে এলাকাবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *