মাতৃত্বকালীন ছুটি মৌলিক অধিকার! যমজ সন্তান প্রসবের পর দ্বিতীয়বার ছুটির আবেদনে বড় রায় হাইকোর্টের

প্রথমবার গর্ভাবস্থায় যমজ সন্তানের জন্ম দেওয়া মানেই এই নয় যে, দ্বিতীয়বারের প্রেগন্যান্সিতে মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া যাবে না—এক যুগান্তকারী রায়ে এমনটাই স্পষ্ট করে দিল তেলঙ্গানা হাইকোর্ট। এক সরকারি অধ্যাপিকার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত জানিয়ে দিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি কেবলমাত্র নিয়মের মারপ্যাঁচে আটকে থাকার বিষয় নয়, এটি সরাসরি মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলাকারী অধ্যাপিকা জাদি স্বরূপা রানি ২০২৩ সালে প্রথমবার গর্ভবতী হয়ে যমজ সন্তানের জন্ম দেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হলে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দেন। এই সময়ে তিনি নিয়মমাফিক মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, সরকারের ‘দুই সন্তান নীতি’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ দু’টি জীবিত সন্তানের জন্যই এই ছুটির সুবিধা মেলে, যেহেতু এটি তাঁর তৃতীয় সন্তান, তাই তিনি ছুটির দাবিদার নন।

হাইকোর্টে আইনজীবীর যুক্তি
কলেজ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই অধ্যাপিকা। তাঁর আইনজীবী গাট্টু বিনয় কুমার সওয়াল করেন, যমজ সন্তানের জন্ম একটি সম্পূর্ণ জৈবিক প্রক্রিয়া, যা কোনো মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। প্রথমবার যমজ সন্তান হয়েছে বলেই দ্বিতীয়বার গর্ভাবস্থায় ছুটি না দেওয়া তাঁর মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন।

আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি কে শরৎ কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেন। বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, “এটি কেবল নিয়মের বিষয় নয়, সম্পূর্ণ মানবিকতার বিষয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির মূল উদ্দেশ্য হলো একজন কর্মরতা মায়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। এই ছুটি যদি স্রেফ নিয়মের গণ্ডিতে আটকে রাখা হয়, তবে তার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যাবে।”

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রথমবার যমজ সন্তান হওয়ার কারণ দেখিয়ে কোনোভাবেই ওই মহিলাকে মাতৃত্বকালীন ছুটির ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আদালতের এই রায় কর্মরতা মায়েদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *