রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন! ভারতের কোন শহরের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?

অসহ্য গরম শুধু দিনের বেলাতেই সীমাবদ্ধ নেই, এবার তা হানা দিচ্ছে আপনার ঘুমের ওপরও। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে রাতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতীয়দের ঘুমের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—ঘুমের ক্ষতির নিরিখে ভারত এখন বিশ্বের অন্যতম ‘হটস্পট’।
ভারতের ছবিটা কেমন?
১০৭টি ভারতীয় শহরের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দারা প্রতি বছর গড়ে ৭৮ থেকে ৯১ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমের ক্ষতি করছেন। এর মধ্যে তামিলনাড়ু ঘুমের ক্ষতির দিক থেকে সারা দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
মহানগরগুলোর হাল: চেন্নাইয়ের বাসিন্দারা বছরে গড়ে ৯৩ ঘণ্টা ঘুম হারাচ্ছেন। পিছিয়ে নেই মুম্বাই (৮৪ ঘণ্টা) এবং কলকাতা (৮০ ঘণ্টা)। বেঙ্গালুরুতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বার্ষিক ঘুমের ক্ষতির হার ৮ ঘণ্টা।
অন্যান্য রাজ্য: মহারাষ্ট্রে বার্ষিক গড় ঘুমের ক্ষতি ৭৬.৩ ঘণ্টা এবং উত্তরপ্রদেশে প্রায় ৬৯ ঘণ্টা।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে সংকট:
গবেষণা বলছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী মানুষ গড়ে প্রতি বছর ৫৬ ঘণ্টা ঘুম হারিয়েছে, যার অন্তত ১০ শতাংশ সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল। ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘুমের ক্ষতির হার অন্তত দ্বিগুণ হয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি চিন্তার?
‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ডাল জানান, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মানুষের ঘুমের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা এখন পরিমাপযোগ্য। এটি কেবল চরম আবহাওয়া নয়, বরং মানুষের স্বাস্থ্যের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদাকেই আঘাত করছে।”
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা:
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। এই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে তা কেবল ক্লান্তিই আনে না, বরং ডেকে আনে গুরুতর সব রোগ:
শারীরিক সমস্যা: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলার রোগ এবং ওজন বৃদ্ধি।
মানসিক ও কর্মক্ষমতা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাওয়া।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি: পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে বিভিন্ন ধরণের দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বাড়ছে।
বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী এবং নিম্ন আয়ের দেশের বাসিন্দারা এই সমস্যার কবলে সবচেয়ে বেশি পড়ছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের এই ‘লুকানো’ প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী জনস্বাস্থ্য সংকটের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা।