‘পাপমুক্ত হবে মিড ডে মিল,’ TMC-র দুর্নীতি টেনে ISKCON-এর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রথযাত্রার পবিত্র দিনে ইসকনের অ্যালবার্ট রোডের মন্দিরে সামিল হয়ে এক ঐতিহাসিক সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন রথের রশিতে টান দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করলেন, শ্রীলা প্রভুপাদের স্মৃতি বিজড়িত আবাসনকে ‘হেরিটেজ’ তকমা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিতে চলেছে।
প্রভুপাদের ঘর হবে হেরিটেজ বিশ্বজুড়ে জগন্নাথদেবের মহিমা প্রচারের ক্ষেত্রে শ্রীলা প্রভুপাদের অবদানকে সম্মান জানাতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, “শ্রীলা প্রভুপাদ যে ঘরে থাকতেন, তা হেরিটেজ তকমার যোগ্য। আমাদের সরকার হেরিটেজ কমিশন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর সেখান থেকেই আমরা এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করব।”
মিড ডে মিল নিয়ে ‘পাপমুক্ত’ বার্তা আগামী ১ অগাস্ট থেকে কলকাতার সমস্ত সরকারি স্কুলে ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল পরিবেশনের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদী। এদিন পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আগে মিড ডে মিলের নামে দুর্নীতি করা হতো। ইসকনের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন খাবার চালু হলে, এই প্রকল্প দুর্নীতি ও পাপমুক্ত হবে।”
রাজনীতির ঊর্ধ্বে উন্নয়ন বিভিন্ন রথযাত্রা উৎসবের সংস্কারের জন্য রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদানের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “টাকা দেওয়াটাই বড় কথা নয়, অনেক প্রাচীন রথযাত্রা আছে যা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধুঁকছে। সরকার ‘বিকাশ ও বিরাসত’—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের ভালোবাসা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে আমরা কাজ করছি।”
এদিন মন্দিরে আরতি করার পর তিনি রথের পথ পদ্মফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজিয়ে তোলেন। এরপর প্রথা অনুযায়ী ‘ছেঁড়া পহড়া’র রীতি পালন করে রথের রশিতে টান দেন মুখ্যমন্ত্রী। সবশেষে ভক্তদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জগন্নাথদেবের ভজনে গলা মেলাতেও দেখা যায় তাঁকে।
রথযাত্রার এই শুভ দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।