ডাক্তারি ছাত্রীর ছদ্মবেশে হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী! গভীর রাতে হানা দিয়ে যা দেখলেন, তাতে শিউরে উঠলেন মন্ত্রী

রাত তখন প্রায় বারোটা ৪০। কল্যাণীর জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল (JNM) হাসপাতালে মাস্ক পরে ঢুকলেন এক তরুণী। সাধারণ কোনো পড়ুয়া ভেবেই কেউ বিশেষ গুরুত্ব দেননি। কিন্তু মাস্ক খুলতেই হাসপাতালের অন্দরে পড়ে গেল শোরগোল! তিনি আর কেউ নন, খোদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। হাসপাতালের অব্যবস্থার ‘বাস্তব চিত্র’ দেখতেই বুধবার গভীর রাতে এই চমকপ্রদ ‘সারপ্রাইজ় ভিজিট’ করলেন তিনি।

জরুরি বিভাগে সিনিয়র ডাক্তারের অভাব হাসপাতালে পা রেখেই মন্ত্রী দেখেন, জরুরি বিভাগে কোনো সিনিয়র চিকিৎসক নেই। সবটাই চলছে জুনিয়র ডাক্তারদের ভরসায়। এই দৃশ্য দেখেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুমনা সরকার। তিনি জানান, রাত ১০টার পর থেকেই সিনিয়র চিকিৎসকদের দেখা না পাওয়ার যে অভিযোগ নিয়মিত আসছিল, তা যে ভিত্তিহীন নয়, তা তিনি স্বচক্ষে প্রমাণ পেয়েছেন।

নোংরা পরিবেশ ও নিরাপত্তাহীনতা হাসপাতাল চত্বরের অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি দেখে রীতিমতো বিরক্ত মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রতিটা জায়গা নোংরা, এমন কোনো বিভাগ নেই যেখানে অপরিচ্ছন্নতার ছাপ নেই। এমনকি হাসপাতালে অবাধে কুকুর-বেড়ালের বিচরণ দেখে আমি স্তম্ভিত।” এরপর হাসপাতালের হস্টেল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, নিরাপত্তার বালাই নেই বললেই চলে—পুরো ‘ওপেন টু অল’। ছাত্রীদের হস্টেলের বেহাল দশা এবং নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শেই এই অভিযান মন্ত্রী জানান, আরজি কর কাণ্ডের পর থেকেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই সারপ্রাইজ় ভিজিটের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সুমনা বলেন, “আমি পুরো স্টুডেন্টের সাজে রাত ১২টার সময় ঢুকেছিলাম। আমার এই অভিযানের কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও জানিয়েছিলাম। তিনি আমাকে একা না গিয়ে মহিলা নিরাপত্তারক্ষী সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।”

সিস্টেম বদলের হুঁশিয়ারি হস্টেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে কে কখন ঢুকছেন বা বেরোচ্ছেন, তার কঠোর রেকর্ড রাখতে হবে। বিগত সরকারের আমলেই এই অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বর্তমান সরকার দ্রুত এই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। হাসপাতালের এই জরাজীর্ণ অবস্থা এবং অব্যবস্থার বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এই অকস্মাৎ অভিযানে চিকিৎসকমহল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে যে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীর এই সশরীরে পরিদর্শনের পর জেএনএম হাসপাতালের অবস্থার আদৌ কোনো পরিবর্তন হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *