“আমি মোদীজি-অমিতজি আর শুভেন্দুদার সাপোর্টার”: রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজনীতিতে আসার পর থেকেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই রচনার মুখেই এবার এমন কিছু মন্তব্য শোনা গেল, যা রাজ্য রাজনীতিতে ভূকম্পন সৃষ্টি করেছে। বুধবার হুগলির এক জনসমাবেশে তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সটান জানিয়ে দিলেন, তিনি আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাপোর্টার।
কী বললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়?
হুগলির রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি মোদীজি, অমিতজি এবং শুভেন্দুদার সাপোর্টার।” তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি শোনার পর উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহলের নেতারা—সকলেই রীতিমতো অবাক। দীর্ঘদিনের তৃণমূলের সাংসদ হয়েও প্রকাশ্য মঞ্চে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের এভাবে সমর্থন করাকে অনেকেই তাঁর ‘রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তনের’ প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
জল্পনার কেন্দ্রে দলবদলের সম্ভাবনা
২১ জুলাইয়ের সমাবেশের মাত্র কয়েকদিন আগে সাংসদের এই মন্তব্য শাসকদলের অন্দরে চূড়ান্ত অস্বস্তি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রচনার এই মন্তব্যের মানে কেবল একজন ব্যক্তির সমর্থন নয়, বরং এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে আছে। তিনি কি দলের অন্দরে কোনো চাপা ক্ষোভ থেকে এমন কথা বললেন? নাকি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সময়ের অপেক্ষা? সেই প্রশ্নের উত্তর এখন সময়ের গর্ভেই।
বিজেপি ও তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল বিজেপি একে ‘স্বাগত পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে এই মুহূর্তে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও, দলের অন্দরে যে এই ঘটনায় প্রবল তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সাংসদ রচনার এই ‘সুইচ’ টিপার পর এখন রাজ্য রাজনীতির গতিপথ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।