হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমানোর মরিয়া চেষ্টা! ইরানের প্রভাব রুখতে নতুন পথে গাল্ফ দেশগুলি

ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণে উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালী। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই তেল পরিবহন রুটে নিয়মিত বিস্ফোরণ, গোলাগুলি এবং জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার খাতিরে এবং ইরানের কৌশলগত প্রভাব থেকে মুক্ত হতে ‘বিকল্প রুট’ তৈরির কাজ জোরকদমে শুরু করেছে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো (Gulf Nations)।

বিকল্প রুটের নীল নকশা
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক অস্থিরতায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। তাই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরাক ও সৌদি আরব এখন বড় বিনিয়োগ করছে পাইপলাইন প্রকল্পে।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি: তাদের ‘ওয়েস্ট-ইস্ট পাইপলাইন’ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদের নির্দেশে ২০২৭ সালের মধ্যেই এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। চালু হলে এটি প্রতিদিন ৩৬ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানির ক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি, আরব সাগর সংলগ্ন এলাকায় একটি নতুন বন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

ইরাক: ইরাক ৪৩৫ মাইল দীর্ঘ ‘বাসরা-হাদিথা’ পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। জর্ডন, সিরিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এই প্রকল্পটি প্রতিদিন ২৫ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানি একে দেশের তেল রফতানি সুরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন।

সৌদি আরব: রিয়াধ তাদের ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের ক্ষমতা প্রতিদিন ৯০ লক্ষ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে।

কেন এই তাড়াহুড়ো?
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে পণ্যবাহী জাহাজ গেলেই মোটা অঙ্কের কর দিতে হচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানির ঝুঁকি। ভারতীয় নাবিকসহ বহু বিদেশি কর্মী এই অঘোষিত যুদ্ধের বলি হচ্ছেন। ইরানের প্রভাব কমিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে স্থিতিশীল রাখাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

হরমুজের গুরুত্ব কি কমবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইন বা নতুন বন্দর দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা হলেও হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে না। বিকল্প রুটগুলোও আবার লোহিত সাগরের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল। তাই তেহরানের প্রভাব পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া গাল্ফ দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়েই থাকবে। তবুও, বিকল্প পথ তৈরি থাকার অর্থ হলো—ভবিষ্যতে কোনো বড় সামরিক সংঘাতে সারা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি থমকে যাওয়ার ঝুঁকি অন্তত কিছুটা কমবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *