পুরীর মন্দিরের গোপন অমৃত! তীব্র গরমে ক্লান্তি দূর করতে জেনে নিন জগন্নাথ দেবের প্রিয় ‘টঙ্কা তোরানি’ তৈরির পদ্ধতি

গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন সাধারণ মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত, তখন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তদের তৃষ্ণা মেটাতে পরিবেশন করা হয় এক বিশেষ পানীয়—‘টঙ্কা তোরানি’। এটি কেবল একটি সাধারণ পানীয় নয়, বরং মহাপ্রভুর ছাপান্ন ভোগের অন্যতম পবিত্র অঙ্গ। হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই পানীয়টি ওড়িশার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
টঙ্কা তোরানি কী?
এটি কোনো কৃত্রিম শরবত বা মিষ্টি পানীয় নয়। প্রতিদিন জগন্নাথ মন্দিরে যে অন্ন বা ভাত ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়, তা থেকেই তৈরি হয় এই অমৃত সুধা। ভাতের ফারমেন্টেশন বা জারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি এই পানীয়টি প্রাকৃতিকভাবেই প্রোবায়োটিকে ভরপুর, যা তীব্র গরমে হজমশক্তি বাড়াতে এবং শরীরকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রক্ষা করতে জাদুর মতো কাজ করে।
বাড়িতে যেভাবে তৈরি করবেন (রেসিপি):
পুরীর মন্দিরের সেই স্বর্গীয় স্বাদ পেতে বাড়িতেই তৈরি করে নিতে পারেন এই স্বাস্থ্যকর পানীয়। আপনার প্রয়োজন:
উপকরণ: এক কাপ সেদ্ধ ভাত, তিন টেবিল চামচ টক দই, এক ইঞ্চি আমআদা, সামান্য ভাজা জিরে গুঁড়ো, ১০টি লেবুপাতা, ১২-১৫টি কারিপাতা, ৫টি কাঁচালঙ্কা, স্বাদমতো লবণ, লেবুর রস এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল। সুগন্ধের জন্য পাতিলেবু ও সুবাসিত কাগজিলেবুর ব্যবহার বাঞ্ছনীয়।
প্রস্তুতি পদ্ধতি:
১. জারণ: প্রথমে সেদ্ধ ভাত পরিষ্কার জলে ভিজিয়ে ২৪ ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে রাখুন।
২. মিশ্রণ: এরপর ভাত ও জল ভালো করে হাতে চটকে নিন। এতে টক দই, পাতিলেবুর রস ও ভাজা জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। কাগজিলেবুর ফালিগুলো পাত্রে ভাসিয়ে দিন।
৩. মশলার ম্যাজিক: শিলনোড়া বা হামানদিস্তায় আমআদা, কাঁচালঙ্কা, লেবুপাতা ও কারিপাতা হালকা থেঁতলে নিন। এবার এই মিশ্রণটি ভাতের জলে মিশিয়ে দিন।
৪. ফিনিশিং টাচ: এবার পরিমাণমতো ঠান্ডা জল দিয়ে পুরো মিশ্রণটি ভালো করে চটকে মিশিয়ে নিন, যাতে ভাতের কোনো ডেলা না থাকে।
কেন পান করবেন?
বাজারে পাওয়া কৃত্রিম ঠান্ডা পানীয়র তুলনায় এটি অনেক বেশি পুষ্টিকর। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করে এবং সারা দিনের ক্লান্তি নিমেষে দূর করে। তবে মনে রাখবেন, ঐতিহ্যানুযায়ী এই পানীয়টি আগে মহাপ্রভুর উদ্দেশ্যে নিবেদন করা উচিত, তারপরই প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা শ্রেয়।
এই গরমে সুস্থ থাকতে এবং জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদপুষ্ট এই প্রাচীন রেসিপিটির স্বাদ নিতে আজই বানিয়ে ফেলুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি ‘টঙ্কা তোরানি’।