UP-তে ২০২৭-এ মুসলিম ভোট কোন দিকে? জেনেনিন কী বলছেন নেতারা?

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও, রাজনৈতিক পারদ এখনই তুঙ্গে। সম্প্রতি ‘আজ তক’-এর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘পঞ্চায়েত আজ তক’-এর মঞ্চে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব, ওয়াকফ সংশোধন বিল এবং বিজেপির নির্বাচনী কৌশল নিয়ে মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল বিজেপি, সমাজবাদী পার্টি (SP) এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম (AIMIM)।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র মহসিন রাজা, সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র ড. এম এইচ খান এবং AIMIM-এর মুখপাত্র শওকত আলীর উপস্থিতিতে এই বিতর্ক এক সময়ে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
১০০% নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব বনাম ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি
অনুষ্ঠানে বিজেপি মুখপাত্র মহসিন রাজাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ২০২৭ সালের নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের প্রায় ২০ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না। জবাবে মহসিন রাজা বলেন:
“ভারতীয় জনতা পার্টি কোনও নির্দিষ্ট ২০ শতাংশ বা বিশেষ কোনও অংশের রাজনীতি করে না। আমাদের দল জনসংখ্যার ১০০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। সরকারি প্রকল্পগুলি ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে সমস্ত নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।”
এর পাল্টা জবাবে সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র ড. এম এইচ খান বলেন, “সরকারি প্রকল্পগুলি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া কোনও সরকারের দয়া বা অনুগ্রহ নয়। এটা সাধারণ মানুষের করের টাকা এবং এর ওপর দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অহংকার ভেঙে অর্ধেক আসন করে দিয়েছে এবং ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে এ রাজ্য থেকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
ওয়াকফ বিল ও অমুসলিম সদস্য বিতর্ক: মুখোমুখি তরজা
বিতর্কের সবচেয়ে বড় ঝড় ওঠে কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ সংশোধন আইন নিয়ে। AIMIM মুখপাত্র শওকত আলী সরাসরি বিজেপি সরকারকে নিশানা করে বলেন: “ব্যবহারভিত্তিক ওয়াকফ ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে সরকার আদতে আমাদের সম্পত্তি কেড়ে নিতে চাইছে। ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে হাজার হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি নষ্ট হয়ে গেছে। এবার ১০০ বছরের পুরোনো কবরস্থান, মসজিদ এবং ওয়াকফ সম্পত্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণও সরকার নিজের হাতে নিতে চাইছে।”
ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করে শওকত আলী বলেন, “ওয়াকফ হলো মুসলমানদের সম্পত্তি। এতে শুধু মুসলমানদেরই প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা সংবিধানের পরিপন্থী।”
পাল্টা জবাবে বিজেপির মহসিন রাজা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন:
-
স্বচ্ছতা আনা লক্ষ্য: ২০২৫ সালের ওয়াকফ আইনের সংশোধনীর উদ্দেশ্য কারও সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া নয়, বরং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত করা।
-
দুর্নীতির তদন্ত: পূর্বতন সরকারগুলির আমলে ওয়াকফ বোর্ডে ব্যাপক দুর্নীতি ও জমি জবরদখল হয়েছে। সেই অনিয়মের তদন্ত হওয়া উচিত যাতে আসল সুবিধাভোগী গরিব সংখ্যালঘুরা উপকৃত হন।
-
সংবিধিবদ্ধ পরিবর্তন: ওয়াকফ বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থা। এর সঠিক পরিচালনা ও সমন্বয়ের স্বার্থেই বোর্ডে অমুসলিম সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্ভলের ঈদগাহ বিতর্ক ও ২০২৭-এর সংঘাত
বিতর্কের শেষ পর্বে সম্ভলের ঈদগাহ ভাঙার প্রসঙ্গ টেনে সুর চড়ান এআইএমআইএম মুখপাত্র শওকত আলী। তাঁর প্রশ্ন, “জমিটি যদি কবরস্থানেরই হয়ে থাকে, তবে সেখানে বহু প্রাচীন যে ঈদগাহটি গড়ে উঠেছিল, তা কেন ভেঙে ফেলা হলো?”
পাল্টা বক্তব্যে মহসিন রাজা সাফ জানান, বিজেপি কাউকে ভোটব্যাঙ্ক মনে করে না। ২০১৭ এবং ২০২২ সালে উত্তরপ্রদেশের মানুষ যেভাবে কাজ দেখে ভোট দিয়েছেন, ২০২৭ সালেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে।