‘অভিষেককে বাঁচাতে দলের সর্বনাশ!’ দলত্যাগ করে তোপ মদনের, একুশে জুলাইয়ের সভাকে কটাক্ষ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পরিচিত কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র শেষ পর্যন্ত নেত্রীর হাত ছাড়লেন। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ছাড়ার ঘোষণা করেন এবং ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে যোগ দেন। দলবদলের পরেই সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানায় নিয়ে তিনি দাবি করেন, “ইডির চেয়েও ভয়ংকর হলেন এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)।”
বিধানসভায় ঋতব্রতের পাশে বসে মদন মিত্র বলেন, “বাবার দেওয়া নাম এবং কামারহাটির বিধায়ক পদ ছাড়া তৃণমূলের সমস্ত পদ আমি ছেড়ে দিলাম।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা থাকলেও দল পরিচালনার প্রশ্নে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেন। মদনের কথায়, “আমরা অভিষেককে পরামর্শ দিয়েছিলাম অন্তত ছয় মাস বা এক বছরের জন্য দল থেকে দূরে থাকতে, যাতে দলটাকে নতুন করে সাজানো যায়। কিন্তু তিনি রাজি হননি। অভিষেককে বাঁচানোর চক্করে গোটা দলকে মরতে দেওয়া হচ্ছে।”
দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন এই প্রবীণ নেতা। মদনের আক্ষেপ, “দলের সেনাপতি যদি ঠিকমতো দলকে চালাতে না পারেন, তবে গোটা দলই তো ভয়ের পরিবেশের মধ্যে থাকবে। একটি মানুষের জন্য কি গোটা দল ও তার সমর্থকদের বিসর্জন দেওয়া যায়?” তাঁর দাবি, দলের মধ্যে যে দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই পথ ছাড়া তাঁর সামনে আর কোনো উপায় ছিল না।
একুশে জুলাইয়ের সভা নিয়ে কটাক্ষ: কলকাতা হাইকোর্ট বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের যে অনুমতি দিয়েছে, তা নিয়েও কালীঘাট তৃণমূলকে একহাত নিয়েছেন মদন। তিনি বলেন, “সেখানে আড়াই হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমতি মিলেছে। ওখানে তো বাদাম আর মুড়িওয়ালার ভিড়েই তার চেয়ে বেশি মানুষ থাকে! চ্যালেঞ্জ করে বলছি, প্রকৃত তৃণমূল যদি ডাক পায়, তবে ব্রিগেড ভরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও আমাদের রয়েছে।”
মদন মিত্রের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার এই দলবদল এবং অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘শেল’ বর্ষণ রাজ্য রাজনীতির সমীকরণকে যে অনেকটাই ওলটপালট করে দিল, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন আগামী দিনে দলকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।