দেশে সয়াবিনের সংকট! বাজারে দাম বৃদ্ধি রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? জানুন

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সয়াবিনের চাহিদার তুলনায় জোগান কম হওয়ায় বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে সয়াবিনের অভাব মেটাতে এবার বিপুল পরিমাণ সয়াবিন আমদানির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘সয়াবিন প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’ (SOPA)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে সয়াবিন আমদানির হার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমদানির পরিসংখ্যান ও উৎপাদনের ঘাটতি: চলতি তেল বর্ষের (২০২৫-২৬) অক্টোবর থেকে জুন মাস পর্যন্ত দেশে প্রায় ৭.৭৭ লক্ষ টন সয়াবিন আমদানি করা হয়েছে। তুলনায় গত বছর একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ২ হাজার টন। SOPA-এর অনুমান, পুরো মরশুমে আমদানির পরিমাণ প্রায় ৯ লক্ষ টনে গিয়ে ঠেকতে পারে। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার যোগান দিতে উৎপাদন কম হওয়াই এই আমদানির প্রধান কারণ। এবারের মরশুমে মোট উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১১.০২৬ মিলিয়ন টন, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭.৭৫ মিলিয়ন টন বাজারে এসেছে। অথচ গত বছর এই সময়ে বাজারে এসেছিল প্রায় ৮.৯ মিলিয়ন টন সয়াবিন।

উৎপাদন ও রফতানিতে প্রভাব: সরবরাহ কম থাকায় সয়াবিন মিলের উৎপাদনেও ভাটা পড়েছে। গত বছরের ৬.৮৬৫ মিলিয়ন টনের তুলনায় এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬.৪৩১ মিলিয়ন টনে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রফতানির ওপর। অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও চড়া দামের কারণে এ বছর জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ৯০.২ মিলিয়ন টন সয়াবিন মিল রফতানি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশ কম। অন্যদিকে, পশুখাদ্য শিল্পে সয়াবিন খৈলের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়ছে। অক্টোবর থেকে জুন মাসের মধ্যে পশুখাদ্য খাতে প্রায় ৪৮ লক্ষ টন খৈল ব্যবহৃত হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারের ভবিষ্যৎ ও বিশেষজ্ঞদের মত: সয়াবিন আমদানি বৃদ্ধি এবং রফতানি হ্রাসের ফলে দেশের সামগ্রিক সয়াবিন বাজার বর্তমানে এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাস আমদানি প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য এবং সরকারি নীতির ওপর ভিত্তি করেই সয়াবিনের বাজার নির্ধারিত হবে। কৃষক এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প—উভয়ের স্বার্থরক্ষার জন্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং চাহিদার মধ্যে দ্রুত ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *