পাকাপাকি ভাবে কলকাতাতেই থাকবেন তসলিমা? বড় ইঙ্গিত দিলেন দিলীপ ঘোষ

দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসন কাটিয়ে অবশেষে কলকাতার মাটিতে পা রাখতে চলেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদবিরোধী এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আর তাঁর এই ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যখন উত্তাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
তসলিমা প্রসঙ্গে বড় বার্তা: বুধবার নদিয়ার হরিণঘাটার ‘কাঁঠাল উৎসব ২০২৬’-এ যোগ দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভারতবর্ষ চিরকালই নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়স্থল। তসলিমা নাসরিন যদি ফিরতে চান, তবে এখানেও থাকার সুযোগ পাবেন।” মন্ত্রী আরও বলেন, একসময় মৌলবাদীদের চাপে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তাঁর কথায়, “অনেকেই ফিরছেন, শিল্প ফিরছে, মানুষও ফিরছে।”
বিঁধলেন প্রাক্তন ও বর্তমান সরকারকে: তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বামফ্রন্ট এবং পূর্বতন তৃণমূল সরকার—উভয়কেই কাঠগড়ায় তুলেছেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রীর দাবি, “যাঁরা মুখে বাঙালির কথা বলেন, তাঁরাই তসলিমাকে সরতে বাধ্য করেছিলেন। সেইসময় সেক্যুলারিজমের নামে সংবিধানের বাইরে গিয়ে যে গুন্ডামি চলত, আজ তারই প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে।”
তসলিমার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া: দীর্ঘ ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর কলকাতায় ফেরার খবর নিশ্চিত করে তসলিমা নাসরিন বলেন, “আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কলকাতা আমার কাছে শুধু একটি শহর নয়, আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর। ২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে এই শহর ছাড়তে হয়েছিল, কিন্তু শহরটা কখনও আমার মন থেকে দূরে যায়নি। মনে হচ্ছে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে নিজের ঘরে ফিরছি।”
অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়তি কৌতূহল: সেক্যুলার মিশন এবং এইচআরবিএফএফ-এর উদ্যোগে আয়োজিত মৌলবাদবিরোধী ওই অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনকে সংবর্ধনা জানানো হবে। এদিকে, এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তসলিমার এই ফেরা এবং মন্ত্রীর মন্তব্য—সব মিলিয়ে আগামী ১ আগস্টের এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আঙিনায় এখন তুঙ্গে জল্পনা।