স্কুলে অপমানিত সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া, আত্মহত্যার চেষ্টায় আশঙ্কাজনক অবস্থা! উত্তাল বেঙ্গালুরু

স্কুলের শিক্ষকের কঠোর শাস্তি এবং ক্রমাগত মানসিক হেনস্থার জেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বেঙ্গালুরুর জ্ঞানভারতী এলাকার মারিয়াপ্পানাপাল্য নামক একটি বেসরকারি স্কুলে। ১৩ বছর বয়সী এই ছাত্র বর্তমানে নয়ান্দাহাল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
পরিবারের অভিযোগ, স্কুলে সহপাঠীদের সঙ্গে সামান্য ঝগড়ার জেরে ওই ছাত্রকে কঠোর শাস্তি দেন এক শিক্ষক। তাকে ক্লাসরুমের বাইরে সারাদিন দাঁড়িয়ে রাখা হয়। শুধু তাই নয়, বাড়ি ফেরার আগে তাকে পরের দিন বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, এই ঘটনায় মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েছিল শিশুটি। বাড়ি ফেরার পর তার বড় ভাই বাইরে খেলতে গেলে, সেই সুযোগে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে বড় ভাই ফিরে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

গুরুতর অভিযোগ: জাতপাতের হেনস্থাও?
ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, স্কুলের শিক্ষক এবং সহপাঠীদের একাংশ নিয়মিত তাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন। এমনকি, তাদের অভিযোগ—ছাত্রটির জাতপাত নিয়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করা হতো। পরিবার জানিয়েছে, এই ধরণের হেনস্থার কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই শিশুটি স্কুলে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল। অভিভাবকরা তাকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন, সপ্তম শ্রেণি শেষ হলেই তাকে অন্য স্কুলে সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার সম্মুখীন হতে হলো তাকে। আরটিই (RTE) আইনের অধীনে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের প্রতি স্কুলের আচরণ নিয়েও এখন বড় প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ও অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা হাসপাতালে গিয়েছি এবং চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করলেই আমরা তদন্ত শুরু করব এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় বেঙ্গালুরুর স্কুলগুলোর পড়াশোনার পরিবেশ এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের মান নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *