‘সবাইকে মরতে দেওয়া হচ্ছে অভিষেককে বাঁচাতে’! বিস্ফোরক মদন মিত্রের দলবদল ঘিরে শোরগোল

বহু বছরের রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী ও কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদন মিত্র এবার তৃণমূলের সমস্ত পদ ছেড়ে যোগ দিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। বুধবার বিধানসভায় ঋতব্রতর ঘরে বসে মদন মিত্রের এই ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কেন এই বিচ্ছেদ?
দীর্ঘদিন দলের দুর্দিনে মমতার পাশে থাকার পরেও কেন এই সিদ্ধান্ত? মদন মিত্রের কথায়, তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্ব এবং কাজের পদ্ধতিই এই বিচ্ছেদের মূল কারণ। তিনি সাফ জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার সম্মান অটুট, তাঁর ছবি আমার হৃদয়ে আছে। কিন্তু দলের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
অভিষেককে লক্ষ্য করে তোপ
দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলেছেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “আমরা অভিষেককে অনুরোধ করেছিলাম কয়েক মাস দল থেকে দূরে থাকতে, যাতে আমরা দলটাকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে পারি। কিন্তু তিনি রাজি হননি। কেবল অভিষেককে বাঁচানোর চক্করে গোটা দলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। দলের সেনাপতি যদি দলকে ঠিকমতো চালাতে না পারেন, তবে সেই দলের ভবিষ্যৎ কী?”
তিনি আরও যোগ করেন, “একজন মানুষের জন্য কি গোটা দল ও মানুষকে বিসর্জন দেব? হিটলারি কায়দায় রাজনীতি করে বিজেপি-কে হারানো সম্ভব নয়।”
ইডি-ভীতি কি কারণ? নিজের পরিবারের সদস্যদের ইডি-র তলব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে মদন মিত্র বলেন, “রাজনৈতিক জীবন আর ব্যক্তিগত জীবন আলাদা। আমার পরিবার তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এর সঙ্গে শিবির বদলের কোনো সম্পর্ক নেই। মদন মিত্র টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছে—এটা প্রমাণ করতে পারলে গণভোট করা হোক।”
‘খাটিয়াই সেরা’ তৃণমূল থেকে ঋতব্রত শিবিরে আসা নিয়ে মদন মিত্রের মন্তব্য, “আমি তৃণমূলের ঘর থেকে বেরিয়ে অন্য ঘরে গেলাম। ওই ঘরে সুখের পালঙ্ক ছিল, আর এই ঘরে হয়তো একটি খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়াটাকেই বেছে নিলাম।”
সোমবার পর্যন্তও যিনি কালীঘাটে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন, বুধবার তাঁর এই শিবির বদল বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা বড় প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।