‘সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন ইন্দ্রজিৎ’-বারুইপুরে নির্যাতিতার বাবাকে সরকারি চাকরি শুভেন্দু সরকারের

বারুইপুরে ৩৫ বছর বয়সী যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মর্মান্তিক গণপিটুনি ও মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের গতি বাড়াল পুলিশ। এই ঘটনায় সাকিম লস্কর ওরফে ‘কেলে’ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়ে আলোচিত এই মামলাটিতে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতকে বুধবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
একদিকে যখন পুলিশের ধরপাকড় চলছে, অন্যদিকে রাজ্য প্রশাসনের তরফে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও স্পষ্ট। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, বারুইপুরে নির্যাতিতার বাবাকে কারা দপ্তরে চাকরি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দিয়েছিলেন।
বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার জেরে ইন্দ্রজিৎকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, ইন্দ্রজিৎ সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, “নাম-পরিচয় দেখে এই খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের এক অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। এর পিছনে যারা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, তাদের উস্কানি রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, ভিডিও ফুটেজে যাদের দেখা গিয়েছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
তদন্তে কড়াকড়ি
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—বেআইনি জমায়েত, দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, আঘাত এবং গণপিটুনিতে খুনের মতো গুরুতর অপরাধ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের খোঁজে বকখালি, দিঘা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিকদের ইঙ্গিত, আগামী দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।