লাল নাকি সাদা ডিম—পুষ্টিগুণে সেরা কোনটি? ভুল ধারণা ভাঙালেন বিশেষজ্ঞরা!

বাজারের ডিমের ঝুড়িতে হাত দিলেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে—সাদা ডিম ভালো, নাকি লাল? অনেকেই মনে করেন লাল ডিমে পুষ্টি বেশি। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলছে? হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের খোসার রঙের সঙ্গে তার পুষ্টিগুণ বা স্বাদের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।
কেন ডিমের রঙ আলাদা হয়?
আসলে ডিমের রঙের বিষয়টি সম্পূর্ণ মুরগির জাত বা জিনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত সাদা পালক ও সাদা কানযুক্ত মুরগি সাদা ডিম পাড়ে, আর লালচে বা বাদামি পালকযুক্ত মুরগি দেয় লাল ডিম। এর পেছনে কোনো গোপন পুষ্টি রহস্য নেই। তাই ‘লাল ডিম মানেই বেশি পুষ্টিকর’—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।
পুষ্টিগুণ আসলে কিসের ওপর নির্ভর করে?
ডিমের গুণমান নির্ভর করে মুরগির প্রতিদিনের খাবার, তার জীবনযাত্রার মান এবং ডিমটি কতটা টাটকা তার ওপর। ডিম প্রকৃতির এক ‘সুপারফুড’। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, কোলিন এবং বায়োটিন (ভিটামিন বি৭) শরীরকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’, লুটেইন এবং জিক্সানথিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে দারুণ কার্যকর। রঙের পার্থক্য নির্বিশেষে, সাদা বা লাল—উভয় ধরনের ডিম থেকেই আপনি সমপরিমাণ পুষ্টি পাবেন।
ডিম কেনার সময় যে ৩টি দিকে নজর দেবেন:
১. ডিমের গায়ে কোনো ফাটল বা দাগ আছে কি না দেখে নিন।
২. প্যাকেটের গায়ে লেখা এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদ যাচাই করুন।
৩. ডিম কতটা টাটকা, তা নিশ্চিত হওয়াই আসল গুণাগুণ পাওয়ার চাবিকাঠি।
ডিম দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখার স্মার্ট উপায়
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডিম সবসময় ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে কম তাপমাত্রায় রাখা উচিত। ভুল করেও ফ্রিজের দরজার তাক বা ‘ডোর শেলফ’-এ ডিম রাখবেন না। বারবার ফ্রিজ খোলার ফলে দরজার তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে, যা ডিম দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। তাই ডিম দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ফ্রিজের ভেতরের অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা অংশে, নিজস্ব কার্টন বা ঢাকা পাত্রে গুছিয়ে রাখুন।