‘সবাই টাকা পাবেন’, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তিত রূপ ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) ঘিরে রাজ্যজুড়ে এখন তুঙ্গে চর্চা। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে যেমন মহিলাদের মধ্যে বিপুল আগ্রহ রয়েছে, তেমনই যোগ্য উপভোক্তাদের নাম বাদ পড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

ভেরিফিকেশন ও টাকা পাওয়া নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
রবিবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “টাকা ঢুকছে, তাই অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা যোগ্য, তারা সকলেই সুবিধা পাবেন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রকল্পের ভেরিফিকেশন বা যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। এই যাচাই পর্ব শেষ হওয়ার পরই বাকি থাকা লক্ষ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। জুলাই মাসেই টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

৩০ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে যাচাই প্রক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন চলবে আগামী ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে দেখে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইতিমধ্যেই প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “ভেরিফিকেশনের পর যদি আরও প্রকৃত প্রাপক থেকে থাকেন, তবে তারাও প্রকল্পের আওতায় আসবেন।”

রাজনৈতিক ভেদাভেদ নয়, যোগ্যতাই শেষ কথা
আগের সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগের প্রকল্পে টাকা দিতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার দেড় মাসের মধ্যেই ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্ণ, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সম্পূর্ণভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। যারা অযোগ্য, তারা তালিকা থেকে বাদ যাবেন, কিন্তু প্রকৃত কোনো উপভোক্তা বঞ্চিত হবেন না।

স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে আবেদনকারীদের মধ্যে। এখন দেখার বিষয়, জুলাই মাসে কত দ্রুত বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরকারি সাহায্য পৌঁছে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *