একুশে জুলাইয়ের দাবি নিয়ে কি ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’? বড় বিতর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলেছেন। তৃণমূলের দাবি—১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই ‘মহাকরণ অভিযান’ হয়েছিল মূলত সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র বা এপিক (EPIC) কার্ড চালুর দাবিতে। বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর মতে, এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর দাবি ও তথ্য:
একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী দাবি করেন, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের মূল দাবি ছিল রাজ্যে ‘আইনের শাসন’ অথবা ‘রাষ্ট্রপতি শাসন’ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি দাবি করেন:
ভুল তথ্য প্রচার: গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল দাবি করছে যে, এই আন্দোলনের ফলেই নাকি সচিত্র ভোটার কার্ড চালু হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ১৯৯৩ সালেই তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার টি.এন. শেষন দেশজুড়ে নির্বাচনী জালিয়াতি রুখতে এপিক কার্ড চালু করেছিলেন। তাই জনপ্রিয়তায় একে ‘শেষন কার্ড’ বলা হতো, আন্দোলনের ফসল হিসেবে নয়।
সংবাদপত্রের দলিল: ১৯৯৩ সালের সেই ভয়াবহ ঘটনার দিন ও তার পরবর্তী সপ্তাহের তৎকালীন সমস্ত বড় সংবাদপত্রের (আনন্দবাজার, বর্তমান, আজকাল, দ্য স্টেটসম্যান, গণশক্তি ইত্যাদি) প্রতিবেদন খতিয়ে দেখলে স্পষ্ট হয় যে, আন্দোলনের দাবিটি ভোটার কার্ড নিয়ে ছিল না।
রাজনৈতিক বয়ান: বিশ্বনাথবাবুর প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং আগে এই দাবি করতেন না, তবে এখন কেন এই বিশেষ বয়ানটি বারবার তৃণমূল নেতৃত্বের মুখে শোনা যাচ্ছে? বিজেপির পাল্টা ন্যারেটিভ তৈরি করতেই এই মিথ্যে দাবি করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
বিতর্কের সূত্রপাত:
একুশে জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় ধরেই এটিকে ‘গণতন্ত্রের লজ্জার দিন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে সচিত্র ভোটার কার্ড চালুর দাবিকে এই আন্দোলনের অন্যতম মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা নিয়ে বিরোধীরা এতদিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছিলেন। বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শহিদ দিবস পালনের নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর দড়ি টানাটানির পাশাপাশি, ইতিহাসের এই ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’-এর দাবিটি রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধী দলগুলো বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসকদলের ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।