বিচার পেতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ কামদুনির পরিবার! ‘জনতার দরবার’-এ মৌসুমী-টুম্পা কয়াল

২০১৩ সালের ৭ জুন কামদুনির সেই নারকীয় ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আজও রাজ্যের মানুষের স্মৃতিতে দগদগে ক্ষতের মতো। সেই ঘটনার ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও ন্যায়বিচার অধরা। অবশেষে সুবিচারের আশায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হলেন কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার এবং এই মামলার দুই প্রতিবাদী মুখ—মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল।

কী অভিযোগ পরিবারের?
আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার তাঁদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলার তদন্ত এবং সিআইডি (CID)-এর ভূমিকা নিয়ে পরিবার ও প্রতিবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের স্পষ্ট অভিযোগ, মামলা পরিচালনায় তদন্তকারী সংস্থা ও আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিস্তর গাফিলতি। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা।

প্রতিবাদের মুখ মৌসুমী ও টুম্পা:
কামদুনিকাণ্ডের পর থেকে মৌসুমী কয়াল ও টুম্পা কয়াল প্রতিবাদের অগ্রভাগে থেকেছেন। বিভিন্ন সময়ে বিচার চেয়ে রাজপথে লড়াই করেছেন তাঁরা। কিন্তু নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত—আইনি বেড়াজালে মামলাটি দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাঁদের দীর্ঘদিনের লড়াই এখন ক্লান্ত। আজ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা সরাসরি আর্জি জানিয়েছেন যাতে দ্রুত এবং নিরপেক্ষভাবে মামলার শেষ পরিণতি নিশ্চিত করা হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কামদুনির বিচার প্রক্রিয়া রাজ্য রাজনীতিতে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শিকার হয়েছে কামদুনির পরিবার, এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। নতুন সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগগুলোকে কীভাবে খতিয়ে দেখেন এবং মামলার গতিপ্রকৃতি বদলাতে কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।

নির্যাতিতার পরিবারের এই লড়াই যে আজও শেষ হয়নি, আজ মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে তাঁদের উপস্থিতিই তার বড় প্রমাণ। প্রশাসনিকভাবে এই জটিল আইনি জট খোলা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে চর্চা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *