“যন্তর মন্তরে অনশনে সোনম ওয়াংচুক”-ফোন করে খোঁজ নিলেন মমতা, কী কথা হলো?

নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে বড় রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যন্তর মন্তরে ১৭ দিন ধরে অনশনরত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুককে মঙ্গলবার ফোন করলেন তৃণমূল নেত্রী। শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি এই আন্দোলনের প্রতি তিনি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি ব্যক্ত করেছেন।
মমতা-সোনম ফোনালাপ: ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ এই ফোনালাপের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “সোনম স্যরের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে কথা বলেছেন। তিনি সোনম স্যরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন এবং এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি, তাঁকে মনোবল অটুট রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।” জবাবে সোনম ওয়াংচুকও মমতাকে এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কে উত্তাল দেশের ছাত্রসমাজ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ চালাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। আন্দোলনের শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রের থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় গত ২৮ জুন থেকে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন।
উদ্বেগজনক শারীরিক পরিস্থিতি: আন্দোলনকারীদের দাবি, টানা ১৭ দিনের অনশনে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর ওজন প্রায় সাড়ে আট কেজি কমে গেছে এবং শরীরের পেশির ক্ষয় শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় সোনম। সরকারের কেন এই ইস্যুতে নীরবতা ও আলোচনায় অনিহা, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিরোধী শিবিরের সংহতি: উল্লেখ্য, সোনমের এই লড়াইকে শুরু থেকেই নৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছেন বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। এর আগে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, আপ নেত্রী অতিশী, সিপিএম সাংসদ অমরারাম এবং শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও সোনমের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়ে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ফোনকল নিট দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে আরও কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এল। এখন দেখার বিষয়, সরকারের তরফে এই চাপের মুখে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে কি না।