২৩ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে IAS হলেন কাজল! পঞ্চম বারে করলেন বাজিমাত

জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য অনেকের লক্ষ্য থাকে চড়া বেতনের কর্পোরেট চাকরি। কিন্তু সেই মরীচিকার চেয়ে দেশের সেবা ও সমাজের পরিবর্তনের নেশা যখন প্রবল হয়, তখন ২৩ লাখ টাকার বার্ষিক প্যাকেজও তুচ্ছ হয়ে যায়। এমনই এক অদম্য জেদ ও পরিশ্রমের গল্প লিখলেন উত্তরপ্রদেশের মীরাটের বাসিন্দা কাজল জাওলা।

কেরিয়ার ও স্বপ্নের সংঘাত: ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর কাজল গুরুগ্রামের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগ দেন। শুরুতে বিশাল বেতনের চাকরিতে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, কাজলের মনে হচ্ছিল তিনি যেন সমাজের জন্য বড় কিছু করার সুযোগ হারাচ্ছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে দেশের সেবা করুক, আর নিজের মনের তাগিদ—এই দুই মিলে ২০১৪ সালে তিনি শুরু করেন ইউপিএসসির প্রস্তুতি।

এক অতিমানবিক লড়াই: কাজলের সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। চাকরির পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব এবং অফিসের ৯ ঘণ্টার কঠোর ডিউটি—এর মাঝেই পড়াশোনার সময় বের করা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং।

  • সময় বাঁচানোর অভিনব কৌশল: দিল্লি থেকে গুরুগ্রাম যাতায়াতে প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হতো। কাজল সেই সময়টুকুকেই কাজে লাগাতে বেছে নেন ক্যাব বা ট্যাক্সিকে। যাতায়াতের পুরো সময়টা তিনি পড়াশোনা করে কাটাতেন।

  • ছুটির দিনের তপস্যা: সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে যতটুকু সময় পেতেন তাতেই মগ্ন থাকতেন, আর সপ্তাহান্তের পুরো সময়টা উৎসর্গ করতেন ইউপিএসসির সিলেবাসে।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা: প্রথম চারটি প্রচেষ্টায় সাফল্য না এলেও কাজল ভেঙে পড়েননি। প্রতিটি ব্যর্থতার পর তিনি ধৈর্য সহকারে নিজের রণকৌশল বিশ্লেষণ করতেন। তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ‘অ্যানসার রাইটিং’ বা উত্তর লেখার অভ্যাসের ওপর। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিবার তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছেন।

সাফল্যের শিখরে: দীর্ঘ পাঁচ বছরের কঠোর তপস্যার পর, ২০১৮ সালে পঞ্চম প্রচেষ্টায় তাঁর জেদ জয়ী হয়। সারা ভারতের মধ্যে ২৮তম স্থান অর্জন করে তিনি প্রমাণ করে দেন যে, পরিশ্রম ও লক্ষ্যে অবিচল থাকলে আকাশও ছোঁয়া সম্ভব। বর্তমানে তিনি মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের একজন দক্ষ আইএএস (IAS) অফিসার হিসেবে জনসেবায় নিয়োজিত।

কাজলের এই কাহিনী আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতা বড় নয়, বড় হলো জেদ। আপনার স্বপ্ন যদি প্রবল হয়, তবে যাতায়াতের পথেও খুঁজে পাওয়া যায় সাফল্যের চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *