পাবলিক ওয়াশরুমে হ্যান্ড ড্রায়ার ব্যবহার করেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ, জানুন কেন

পাবলিক ওয়াশরুমে হাত ধোয়ার পর ড্রায়ারের গরম হাওয়ায় হাত শুকিয়ে নেওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। আপাতদৃষ্টিতে একে পরিচ্ছন্ন এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি বলে মনে হলেও, সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে এক উদ্বেগজনক সত্য। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই হ্যান্ড ড্রায়ারগুলো আসলে জীবাণু ছড়ানোর প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন হ্যান্ড ড্রায়ার বিপজ্জনক?
গবেষণায় দেখা গেছে, হ্যান্ড ড্রায়ার কোনো ফিল্টার করা বাতাস ব্যবহার করে না। এগুলো বাথরুমের ভেতরের গুমোট ও দূষিত বাতাসকেই সরাসরি টেনে নেয়। টয়লেটে ফ্ল্যাশ করার সময় বাতাসে যে অদৃশ্য জলকণা বা ‘টয়লেট প্লাম’ ছড়িয়ে পড়ে, তাতে থাকে মলমূত্রের অতিসূক্ষ্ম কণা এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া। হ্যান্ড ড্রায়ার সেই দূষিত বাতাসকেই উচ্চ গতিতে টেনে নিয়ে পুনরায় আমাদের হাতের ওপর স্প্রে করে, ফলে হাত ধোয়ার পরেও তা পুনরায় জীবাণুযুক্ত হয়ে পড়ে।
গবেষণায় যা উঠে এসেছে:
ইউনিভার্সিটি অব লিডসের গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ কাগজের টিস্যুর তুলনায় জেট এয়ার ড্রায়ার প্রায় ১৩০০ গুণ বেশি জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে দিতে পারে। ড্রায়ারের তীব্র বায়ুপ্রবাহ শুধু আপনার হাতেই নয়, বরং চারপাশের জামাকাপড়, মুখ এবং পাশে থাকা মানুষের শরীরেও জীবাণু ছড়িয়ে দেয়। বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশে এই ড্রায়ারগুলো যেন ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধির মেশিন হিসেবে কাজ করে।
পেপার টাওয়েলই কি সেরা সমাধান?
বিশেষজ্ঞদের মতে, গণশৌচাগারে হাত শুকানোর জন্য কাগজের টিস্যু বা পেপার টাওয়েলই সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর। টিস্যু পেপার ব্যবহারের পর জীবাণুর কণাগুলো টিস্যুর সঙ্গে ডাস্টবিনে চলে যায়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া টিস্যু ব্যবহারের সময় ঘর্ষণের ফলে ত্বকে লেগে থাকা অবশিষ্ট ব্যাকটেরিয়াগুলোও দূর হয়ে যায়।
সতর্কতা:
যদি কোনো পাবলিক ওয়াশরুমে কাগজের টিস্যু না থাকে, তবে ড্রায়ার ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। চিকিৎসকদের মতে, নোংরা বাতাসের ঝাপটা নেওয়ার চেয়ে হাত এমনিই বাতাসে স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে নেওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। একটুখানি সচেতনতাই আমাদের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে পারে।